ঢাকা: ভারত বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে জঙ্গীরা। ভারতের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাকিস্তানি চরমপন্থি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈয়বার আট সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল একাধিক রাজ্য জুড়ে পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈয়বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর একটি বাংলাদেশী মডিউল ভেঙে দিয়েছে এবং এই নেটওয়ার্কের মূল পরিকল্পনাকারী শাব্বির আহমেদ লোনসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

আর এই গ্রেপ্তারদের মধ্যে সাতজনই হচ্ছে বাংলাদেশি। দলের নেতা শাব্বির আহমেদ লোনকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছে।

পুলিশের মতে, এই মডিউলটি ভারতে একটি বড় সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, যা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। দিল্লির জনপথ মেট্রো স্টেশনে সন্দেহজনক পোস্টার দেখতে পাওয়ার পর ৮ ফেব্রুয়ারি এই অভিযান শুরু হয়।

পোস্টারগুলোতে পাকিস্তানপন্থী স্লোগান, কাশ্মীর নিয়ে উস্কানিমূলক বার্তা এবং সন্ত্রাসী বুরহান ওয়ানির ছবি ছিল।

সেগুলোতে উর্দুতে “আমরা পাকিস্তানি, পাকিস্তান আমাদের” লেখা এবং “কাশ্মীরি সংহতি দিবস”-এর উল্লেখ ছিল। পরে দিল্লির আরও বেশ কয়েকটি এলাকায় একই ধরনের পোস্টার পাওয়া যায়।

জানা গেছে, লোন আগে বাংলাদেশে পালিয়ে ছিলো।

বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে তাকে আটক করা হয়। সে ঢাকার কাছাকাছি একটি আস্তানায় লস্করের সেল পরিচালনা করছিলো বলে জানা যায়।

গ্রেপ্তাররা কলকাতা, দিল্লি, তামিলনাড়ু এবং বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা থেকে ধরা পড়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত আটজনের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশি নাগরিক, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে নিজেদের পরিচয় গোপন করতে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করছিল।

অভিযুক্তদের, বিশেষ করে উমর ফারুককে জিজ্ঞাসাবাদে এই নেটওয়ার্কটির কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে আসে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। বগুড়ার মিজানুর রহমান (৩২), জাহিদুল ইসলাম (৪০), মোহাম্মদ লিটন (৪০), মোহাম্মদ উজ্জ্বল (২৭), উমর ফারুক (৩২), ঝালকাঠির মো. শাফায়েত হোসাইন (৩৪) এবং ঠাকুরগাঁওয়ের রবিউল ইসলাম (২৭)।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১০টি মোবাইল ফোন, ২৫টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, পাঁচটি পজ মেশিন, বাংলাদেশি পাসপোর্ট এবং বিভিন্ন পোস্টার।

শাব্বির নিজের পরিচিয় দিত রাজা বলে।রাজা বাংলাদেশে বসে ভারতের বিরুদ্ধে জঙ্গি আক্রমণের পরিকল্পনা করছিল।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর মদতে, লস্করের এই ভারত বিরোধী চক্রান্ত চলছিল।

রাজার আসল কাজ ছিল ভারতে হামলার জন্য বাংলাদেশিদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে নিয়োগ করা। তাদের উস্কে দেয়া। বিশাল বড় ছক কষা হচ্ছিলো।

এই সেল ভারতে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা করছিল, যা নস্যাৎ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার উমর ফারুকের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে লোন বা রাজা তাকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করে। তাকে ভারতে গুরুত্বপূর্ণ স্থান রেকি করার, ভিডিও করার এবং নেটওয়ার্কে আরও বাংলাদেশি যুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

লোন পাকিস্তানের আইএসআই এবং লস্কর-ই-তৈয়বার সিনিয়র হ্যান্ডলারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রেখে চলতো।

এছাড়াও সে তেহরিক-উল-মুজাহিদিন কমান্ডার আবু তালহা এবং ইউএপিএ আইনের অধীনে তালিকাভুক্ত আসিফ দারের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতো।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে কাশ্মীরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনাতেও এই গোষ্ঠীর যোগসাজশ থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি।

সোমবার দিল্লির আদালত লোনকে পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *