ঢাকা: জেন জি- এই শব্দটা বিশেষভাবে পরিচিত হয়েছে বাংলাদেশের জুলাই জঙ্গী আন্দোলনের সময়। জেন জি কি দেশবাসী জেনেছে। তবে জেন জি যেন জামায়াত জেনারেশন না হয়, সে পরামর্শ এবং সতর্ক করে দিলেন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোটের শরিক বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জাতীয় সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ শীর্ষক বিষয়ে নির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই কথাগুলো বলেন।

বক্তব্যে তরুণদের উদ্দেশে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, আপনারা জেন-জিকে রিপ্রেজেন্ট করেন।

দয়া করে ‘জামায়াত জেনারেশন’ হয়ে যাইয়েন না। এ সময় জামায়াতের দ্বিমুখী নীতির সমালোচনা করে বলেন, সারাজীবন ভারতের বিরুদ্ধে রাজনীতি করে এখন ভারতের সাথে মিটিং করছেন।

আবার সারাজীবন ইসলামের নামে রাজনীতি করে ভোটের জন্য শেষে এসে বলছেন, আমরা শরিয়া আইন চাই না। প্রবলেম কী? আমার কথাগুলো একটু ম্যানুভার করেন।

আপনারা পজিটিভ পলিটিক্স নিয়ে আসেন। সংবিধান বাতিল বা ছুড়ে ফেলার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন বিজেপি চেয়ারম্যান।

তিনি পরিষ্কার এবং তীক্ষ্ণ প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘সংবিধান ছুড়ে ফেলব কেন? এই সংবিধানে এত গাত্রদাহ কেন? সংবিধান কি মনে করিয়ে দেয়—এটা একাত্তরের পরাজয়ের দলিল?’

বিজেপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুলাই নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই, আমাদের সমস্যা হচ্ছে প্রক্রিয়া নিয়ে। আপনারা যদি সংবিধান ছিঁড়ে ফেলে নতুন করে বানাতে চাইতেন, তবে সেই সময় রেভল্যুশনারি (বিপ্লবী) বা ট্রানজিশনাল সরকার করলেন না কেন? একটি সাধারণ সরকারে থেকে, পুরোনো সংবিধানে থেকে আপনারা সংবিধান বাতিল করতে চাচ্ছেন— এটা আসলে হয় না।’

যৌক্তিক প্রশ্ন তুললেই ‘জুলাইয়ের বিপক্ষের শক্তি’ বানানোর চেষ্টা হয় অভিযোগ তুলে এর সমালোচনা করেন পার্থ।

তিনি বলেন, ‘কেউ কথা বললেই তাকে জুলাইয়ের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর একটা পাঁয়তারা দেখতে পাচ্ছি। এটা আমাকে আওয়ামী লীগ সরকারের কথা মনে করিয়ে দেয়। তখন আমরা তেলের দাম নিয়ে কথা বললেও বলা হতো— ওরা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না। এখন আমি সেই একই আচরণ দেখতে পাচ্ছি।’

আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘শোনেন, আপনারা শেষ ৬ বলে ১২ রান করেছেন, কিন্তু এর আগের ৩০০ রান আমরা সবাই মিলে করেছি।

সুতরাং আপনারা এমন কথা বলবেন না যাতে দেশবাসী বিভ্রান্ত হয়, যেন জুলাইয়ে আমাদের কোনো কন্ট্রিবিউশনই নাই! ১৭ বছর আমরা কষ্ট করেছি, জেলে গিয়েছি। যেদিন আবু সাঈদ শহীদ হয়েছিল, সেদিন চট্টগ্রামের ওয়াসিম আকরামও কিন্তু শহীদ হয়েছে। অবদান কারও কম নয়।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *