ঢাকা: দেশের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। পরিস্থিতি তাই বলছে। নৌকা ঘাটে বাঁধা, জাল শুকিয়ে আছে, জেলেরা এখন তেলের জন্য লাইন ধরতে হচ্ছে আর মন্ত্রী মহাশয়েরা বলে যাচ্ছেন তেলের সংকট নেই। এই হলো বাস্তবতা।
মৎস্যখাতে নিয়োজিত হাজার হাজার নৌকা ও ট্রলার জ্বালানি সংকটে ভুগছে।সমুদ্রে যেতে না পারায় অধিকাংশ নৌকা ও ট্রলার ঘাটে পড়ে আছে।
এর প্রভাব পড়েছে মাছের বাজারে, বাজারদর বাড়ছে। এই মাছ ধরেই তার সংসার চলে। বাজারে গিয়ে তেল পাচ্ছেন না। সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তাঁরা।
বাংলাদেশের জলসীমার আয়তন প্রায় ১ লক্ষ ৬৬ হাজার বর্গকিলোমিটার, যা বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের চেয়ে বড়।
টেকনাফ থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত ৭১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং সাগরের দিকে ২০০ নটিক্যাল মাইলের বিশাল এই জলসীমায় চারটি ফিশিং জোন রয়েছে।
এগুলো হচ্ছে সোয়াস অব নো গ্রাউন্ড, সাউথ অব সাউথ প্যাসেজ, সাউথ প্যাসেজ ও মিডল গ্রাউন্ড। বঙ্গোপসাগরের এই বিস্তৃত এলাকা থেকে কয়েক লাখ টন মৎস্য শিকার করা হয়।
এগুলোর মধ্যে ইলিশ, পোয়া, রূপচান্দা, দাতিনা, ছুরি, চউখ্যা, কাঁটা মাছ, লাক্ষ্মা, কামিলা, রূপবান, রাঙা চউখ্যা, লাল মাছ, মাইট্টা, লইট্টা, আইল্যা, বাগদা, চাগা, বাগাচামা, হরিণা, লইল্যা, নুইল্যা, নূয়া চাই, কাঁকড়া, স্কুইড ইত্যাদি আহরিত হয়।
দেশীয় কয়েক হাজার ট্রলার ও নৌকা ছাড়াও সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে ১৭০টির মতো জাহাজ গভীর সাগরে মাছ শিকার করে।
মাছগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রিরষ হয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি হয়। কিন্তু এখন জ্বালানি নেই।
হাজার হাজার নৌকা ও ট্রলার জ্বালানি সংকটে পড়েছে। জ্বালানি তেলের অভাবে তারা সাগরে যেতে পারছে না।
সীতাকুণ্ড উপকূলে দেড় হাজারের অধিক নৌকা রয়েছে। যেগুলো সাগরে মাছ ধরতে যায়। নৌকাগুলোতে ডিজেল সরবরাহ না পাওয়ায় তারা সাগরের মাছ শিকার করতে যেতে পারছে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জ্বালানি সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা না গেলে মৎস্যখাতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এতে করে কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয়, খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে।
