ঢাকা: বাংলাদেশে ২০২৪ সালে কোনো গণঅভ্যুত্থান হয়নি, যা হয়েছে সেটা হলো জঙ্গী আন্দোলন, আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করার ম্যাটিকুলাস ডিজাইন। তা ইতিমধ্যে প্রমাণিত।

ইউনূসের কালে হত্যাকারী নিজেই তো রাষ্ট্রের বিচারক হয়ে উঠেছিলো তখন শেখ হাসিনা কিভাবে নিজেকে নিরাপরাধ প্রমাণ করবেন!?

শেখ হাসিনা কাউকেই হত্যা করেননি। বরং হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

কিন্তু তাঁকে হত্যাকারী সাজানো হয়েছে।এটাকে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলা হয়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার বিকল্প কাউকে খুঁজে না পেয়ে শেখ হাসিনাকে খুনী ও দুর্নীতিবাজ সাজানো হয়েছে এবং বলা হয়েছে ভারতের দালাল। এই কথা তিনি সারা জীবন শুনেছেন।

এসব প্রোপাগান্ডার পেছনে মার্কিন ডিপ স্টেটের বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ছিলো। এবং দেশে থাকা জামাত কাজ চালিয়ে গেছে এখনো চালাচ্ছে।

যে ইউনূস আমেরিকা বসে হিলারি ক্লিনটনের সাথে ষড়যন্ত্র করে বাংলাদেশের পদ্মা সেতুর কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল শেখ হাসিনা ইচ্ছে করলেই জনমত ক্ষেপিয়ে ইউনূস ও তার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান জ্বালিয়ে দিতে পারতেন, কিন্তু শেখ হাসিনা তা করেননি। তিনি বরাবর সবসময় আইনের নিয়মে চলেছেন।

এজন্য ইউনূস ক্ষমতা পেয়েই বিএনপি, জামায়াতের সাথে মিলে ধানমন্ডি ৩২ নাম্বারে আগুন দিয়েছে। যা যা ধ্বংসযজ্ঞ আছে সব চালিয়েছে।

এবার মৃত্যুদণ্ডের সাজা খারিজের দাবি জানিয়ে ঢাকার বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে আইনি নোটিস ধরালেন শেখ হাসিনা।

তাঁর হয়ে লন্ডনের একটি আইন সংস্থা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে গত সোমবার এই নোটিস পাঠিয়েছে। বুধবার ট্রাইব্যুনালের হাতে সেই নোটিস পৌঁছেছে।

নোটিসে হাসিনা তাঁর বিচারকে সম্পূর্ণ প্রহসন এবং আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে বর্ণনা করেছেন। সেই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালকে বলেছেন ভবিষ্যতে কোন মামলায় তাঁর বিচারে যেন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়।

শেখ হাসিনার আইনি চিঠি এমন সময় ট্রাইব্যুনালের হাতে পৌঁছেছে যখন জাতিসংঘ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছে। জাতিসংঘের এ চিঠি গুরুত্ব বহন করছে।

এই চিঠি ইউনূস সরকারের সময় পাঠানো হলেও জবাব দিতে হবে তারেক রহমানের সরকারকে।

আইনি নোটিশে লন্ডনের আইনি সংস্থা কিংকসলে নেপলি লিখেছে:

১. আমরা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের  সভাপতি শেখ হাসিনার পক্ষে কাজ করছি।

২. আমরা সেই অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাচ্ছি, যার ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT) শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার ও দণ্ড প্রদান করেছে।

শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে বিচার ও দণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ার আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে মৌলিকভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাঁর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে।

এই পত্রটি বর্তমান প্রক্রিয়ার বৈধতা স্বীকার বা মেনে নেওয়া হিসেবে গণ্য হবে না। শেখ হাসিনা এই প্রক্রিয়ার এখতিয়ার, গঠন, কার্যপ্রণালী ও ফলাফল চ্যালেঞ্জ করার অধিকার সংরক্ষণ করেন।

৩. শেখ হাসিনার বিচার এমন একটি বৈরী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লিগ ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে বৈরিতা ছিল।

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লিগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যার মধ্যে ২০২৫ সালের মে মাসে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটি নিষিদ্ধ করা হয়।

এর ফলে চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা, অপরাধীদের দায়মুক্তি এবং আওয়ামী লিগের পক্ষে আইনজীবীদের গ্রেপ্তারসহ বিভিন্ন ঘটনা ঘটে। আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হামলার শিকার হন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আইসিটির শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচার করার কোন এখতিয়ার নেই।

১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধ বিচার করার জন্য প্রণীত হয়েছিল।

২০২৪ সালে এই আইনের সংশোধনের মাধ্যমে এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে, এটি অবৈধ।

এমন আরো বহু গুরুতর লঙ্ঘনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে চিঠিতে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *