ঢাকা: বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখক তসলিমা নাসরিন দেশের নানান সমস্যা নিয়ে, মুসলমান কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন। লেখালেখি করেছেন এবং তিনি অহরহ ফেসবুকে লিখে থাকেন।

নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, তাঁর সৃষ্টিকর্ম বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে পাঠকদের কাছে আজও সমাদৃত।

তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে একের পর এক সরকার নীরবে মৌলবাদী শক্তির উত্থান দেখছে এবং চরমপন্থাকে ছড়িয়ে পড়ার অবাধ সুযোগ করে দিচ্ছে।

যূমন আওয়ামী লীগের কাজের সমালোচনা করেছেন, তেমনি জামাত, তেমনি বর্তমান বিএনপি সরকারেরও সমালোচনা করছেন। যদিও সেসব সমালোচনা বিপদে যাবার জন্য নয়।

এর আগে তিনি বলেছিলেন, “যখন আমাকে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল, তখনই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত মিলে গিয়েছিল।” অর্থাৎ মৌলবাদের উত্থানের কথা বলেন তিনি।

তিনি দাবি করেন, এরপর একের পর এক সরকার ক্ষমতা সুসংহত করার হাতিয়ার হিসেবে ধর্মকে ব্যবহার করেছে।

“এইসব নীতি ও সিদ্ধান্তের ফলেই এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক নেতারা যা বপন করেছেন, দেশ এখন তারই ফল ভোগ করছে।”

তিনি বলেছিলেন, “আমি বলব, যারা ‘মুক্তিযুদ্ধ’ (বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ)-কে সমর্থন করেন ও বিশ্বাস করেন, আসন্ন (১২ ফেব্রুয়ারি) সাধারণ নির্বাচনে বাংলাদেশে তাদেরই ক্ষমতায় আসা উচিত।” সেসময় নির্বাচন হয়নি।

“দুর্ভাগ্যবশত, বাংলাদেশে যারা ধর্মীয় মৌলবাদ ছড়াচ্ছে তারা জানে যে এ ধরনের গোঁড়ামি দেশের মঙ্গলের জন্য নয়; তবুও তারা নিজেদের স্বার্থে তা করে থাকে,” তসলিমা বলেন।

ইউনূস সরকারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন তিনি।

বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তিকে সমর্থন করে শেখ হাসিনাকেও ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল কারণ মৌলবাদীরা চায়নি যে একজন নারী এত দীর্ঘ সময় ধরে শাসন করুক।

এমনকি তসলিমা বাংলাদেশে বংশীয় রাজনীতির অবসান চান। তাঁর মতে, পারিবারিক বন্ধনের কারণে রাজনীতিবিদরা দেশের কথা না ভেবে উত্তরাধিকারীর কথা ভাবেন।

এবার আবারো মুখ খুললেন দেশের অবস্থা দেখে।

তসলিমা নাসরিন বলেন, “আওয়ামী লীগ,বিএনপি,জাতীয় পার্টি ইত্যাদি পার্টিতে আছে অতি সামান্য প্রগতিশীল, অতি সামান্য সেক্যুলার, বেশি আছে ধার্মিক, বেশি আছে মৌলবাদী, অনেকেই জিহাদি, কিছু আছে জঙ্গি, সবচেয়ে বেশি আছে প্রতারক, ধূর্ত আর ধুরন্ধর।

কোনও পার্টিই পুরোপুরি সেক্যুলার নয়। কোনও পার্টিতে মুক্তচিন্তক নেই। কোনও পার্টিতে সত্যিকার সৎ লোক নেই, সত্যিকার নারীবাদী নেই।

সিপিবির অনেকে সেক্যুলার কিন্তু চূড়ান্ত কনফিউজড একটা পার্টি। জামাতে ইসলামীর সবাই হয় ধর্মান্ধ, মৌলবাদী, নয় জিহাদি, জঙ্গি, ধূর্ত আর ধুরন্ধর।

এ দেশের নষ্ট আর পচা রাজনীতি শুদ্ধ হতে মিনিমাম ১০০ বছর লাগবে”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *