ঢাকা: শিক্ষক হৃদয় মণ্ডলের কথা আপনাদের মনে আছে? যার বিরুদ্ধে মিথ্যা “ধর্ম অবমাননা”-র অভিযোগ তুলে তাঁরই ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে অপমান, হেনস্থা ও লাঞ্ছিত করেছিল? সেই শিক্ষক হৃদয় মণ্ডল মারা গেছেন।
যেদিন একজন বিজ্ঞান পড়ানোর জন্য তাঁকে হেনস্থা করা হয় সেদিনই আসলে তিনি ভিতর থেকে মারা গিয়েছিলেন। যেদিন বিদ্যালয় চত্বরে তাঁর ফাঁসি চেয়ে মিছিল হয়েছিল, যেদিন তাঁর বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছিল, সেদিনই একজন শিক্ষক হিসেবে তাঁর হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল চূড়ান্তভাবে।
২০২২ সালের ২২ মার্চ মাসে বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জের বিনোদপুর রামকুমার উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শিক্ষক হৃদয় চন্দ্র মণ্ডল শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞান ও ধর্মের পার্থক্য নিয়ে আলোচনার সময় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান পড়ানোর সময় ধর্মের বিপরীতে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পক্ষে বলার কারণে কারাভোগ করেছিলেন।
যে ছাত্রছাত্রীদের তিনি সন্তানের মতো দেখতেন, তাদের হাতেই যখন তিনি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হলেন, তার চেয়ে নির্মম আর কী হতে পারে?
তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। অর্থের অভাবে চিকিৎসাও করাতে পারেননি। হয়তো তাই চলে যেতে হলো এত তাড়াতাড়ি।
তিনি ২৫ বছর ধরে বিনোদপুর রামকুমার উচ্চ বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান ও গণিত পড়ান।
নিহতের স্ত্রী ববিতা হালদার রোববার সাংবাদিকদের বলেন, কানের ব্যাথা নিয়ে হৃদয় মণ্ডল ভারতে দুই দফায় প্রায় দেড় মাস চিকিৎসা করান। তার ডান কানে দুবার অস্ত্রোপচার করা হয়। কিছুটা সুস্থ হয়ে ২৮ মার্চ তিনি দেশে ফেরেন। ২৯ মার্চ তিনি কর্মস্থলে যোগদান করে স্বাভাবিক পাঠদানও করেন।
কিন্তু সেই রাতেই বাসায় তিনি মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণে (স্ট্রোক) আক্রান্ত হন। তাকে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ৩১ মার্চ তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। তবে শনিবার বিকালে তিনি মারা যান।
