ঢাকা: বাউল শিল্পী মহারাজ আবুল সরকার জামিনে মুক্ত হয়েছেন। ধর্ম অবমাননার মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ সময় কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন আবুল সরকার।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে উগ্রবাদীরা দেশব্যাপী তান্ডব চালিয়ে একের পর মাজার ভাঙচুর করেছে, আগুন দিয়েছে, বাউল শিল্পীদের উপর লাগাতার হামলা ও নিপীড়ন চালিয়েছে।
বাউল আবুল সরকারকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে অন্যায়ভাবে আটক রেখেছিল।
তবে এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই যে বিএনপি সরকারের আমলে গান বাজনা চালু থাকবে। বরং যা দেখা যাচ্ছে, স্থায়ীভাবে বাঙালির সংস্কৃতি বন্ধ হতে চলেছে। মৌলবাদী শক্তির কাছে নতজানু এই সরকার।
মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডিজে চালানো বন্ধ করা হয়েছে। আর চালালে তাদের কঠিন শায়েস্তা করা হবে।
তবে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে তাঁকে কেন স্থায়ী জামিন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা আবেদন শুনানি নিয়ে সোমবার (৬ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ জামিন দিয়ে রুল জারি করেন।
আদালতে এদিন জামিন আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজী কামরুল ইসলাম সজল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি।
উল্লেখযোগ্য যে, ১৯ নভেম্বর রাতে মাদারীপুরে একটি গানের আসর থেকে আবুল সরকারকে আটক করে মানিকগঞ্জ ডিবি পুলিশের একটি দল। পরদিন সকালে তাঁকে মানিকগঞ্জ জেলা ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়।
পরে ওইদিন দুপুরে ঘিওর উপজেলার মুফতি মো. আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে আবুল সরকারকে আসামি করে ঘিওর থানায় মামলা করেন।
ওই মামলায় তাঁকে গ্রেফতার দেখিয়ে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এই মামলায়ই তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন।
