ঢাকা: নিজের অবস্থানে অনড় জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
দেশের ইতিহাসের সফলতম ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান। তবে রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকার হতে হয়েছে তাঁকে।
প্রায় দুই বছর ধরে আছেন দেশের বাইরে। আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই সংসদ সদস্য ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের পতনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি।
যদিও বিএনপি সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে সাকিবকে স্বাগত জানানো হবে।
তবে যে যাই বলুক, আবেগে ভাসছেন না সাকিব।
আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।
বহু গাল দেয়া হয়েছে সাকিবকে। শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানোর কারণে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। তবুও নিজের জায়গা থেকে টলেননি সাকিব।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম সচল হলে আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন বলে সাফ জানিয়েছেন সাবেক এই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।
দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘যেহেতু আমাদের দলের (আওয়ামী লীগ) কার্যক্রম নাই সেহেতু চেষ্টা করছি ক্রিকেটটা খেলে যাওয়ার। দলের যখন কার্যক্রম যখন শুরু হবে বা আমরা করতে পারবো তখন হয়তো আবার চেষ্টা করবো রাজনীতিটা করার।’
রাজনীতি ও ক্রিকেট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি তো ধরেন আমৃত্যু করা যায়, রাজনীতিতে অনেক সময় আছে। যেটার সময় নেই সেটা হলো ক্রিকেট। এটা আগে ঠিক করার চেষ্টা করছি। আর রাজনীতি যেটা বলছেন, আমি মনে করি রাজনীতি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম যেখান থেকে বড় ধরণের পরিবর্তন আনা সম্ভব। যদি আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, তবে সেটা আমার ভালো লাগবে এবং সেই আশা আমার এখনো আছে। সব সময় থাকবে।’
কিছু দিন আগেই ৩৯ বছরে পা দিয়েছেন সাকিব। আর কতদিন খেলা চালিয়ে যাবেন- প্রশ্নে সাকিব বলেন, ‘খেলার প্রতি আমার আগ্রহ এখনো আগের মতোই অটুট আছে, তাই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেদিন দেখবো আর আগ্রহ নেই, সেদিন নিজ থেকেই সরে দাঁড়াবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি জীবনব্যাপী করা যায়, সময় অনেক আছে। কিন্তু ক্রিকেটের সময় সীমিত। তাই আগে ক্রিকেটের দিকে মনোযোগ দিতে চাই। রাজনীতির মাধ্যমে মানুষকে সাহায্য করতে পারলে ভালো লাগে, সেই আশাই এখনো আছে।’
গেল দুই বছরে দেশে ফিরতে না পারায় দেশের প্রতি মাঝেমধ্যেই টান অনুভূত হয়। তিনি বলেন, ‘যে কেউ নিজের দেশে যেতে না পারলে দেশকে মিস করবে। আমিও তাই, দেশকে খুব মিস করি। আশা করি শিগগিরই ফিরতে পারব, তখন অবশ্যই আনন্দ হবে।’
দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় আশাবাদী। আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্রুত সবকিছু সমাধান করতে পারলে সময় লাগবে না। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে দ্রুত সবকিছু ঠিক হয়ে যায় এবং দেশে ফিরতে পারি।’
