ঢাকা: মঙ্গল শোভাযাত্রা আদৌ থাকবে কিনা, সেটাই এখন প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে মৌলবাদীদের অনেক ভয়। আতঙ্কে ভুগছে এরা। না জানি হিন্দু সংস্কৃতি গ্রাস করে ফেলে। অথচ বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারণা নেই এই জঙ্গী গোষ্ঠীর।
মঙ্গল শোভাযাত্রা যেখানে ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে। পহেলা বৈশাখই হলো বাঙ্গালীদের একমাত্র প্রাণের উৎসব যেখানে বাঙ্গালী পরিচয় সবার ঊর্ধ্বে ফুটে উঠে।
এই শোভাযাত্রা নিয়েই হাজার কথা শুরু হয়েছে। তবে আজ নয়, বহু আগেই। এতদিন থাবা বসাতে পারেনি এখন থাবা বসাচ্ছে।
এক অস্থায়ী সরকার এসে আনন্দ শোভাযাত্রা, আরেক নির্বাচিত সরকার এসে বৈশাখী শোভাযাত্রা নামকরণ করতে চায়।
দেশে এত এত সংকট, (তেল, বিদ্যুৎ, দ্রব্যমূল্য, হাম, আইনশৃঙ্খলা) জনমানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা, এইসব নাম পরিবর্তন বাদ দিয়ে এর চেয়ে সেইদিকে নজর দেয়া শ্রেয় নয় কি?
তবে আসল কথা তো সেটা না, আসল কথা হচ্ছে মঙ্গল শব্দ। মঙ্গল নাকি হিন্দু শব্দ! প্রশ্ন জাগে, মুসলমানরা কি কারো মঙ্গল কামনা করে না?
ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন!
নাসরিন বলেন, “মঙ্গল শোভাযাত্রা নামটিকে বাতিল করতে হবে। বাংলা সংস্কৃতি বিরোধীরা বললো। অনেকে বললো, মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম আনন্দ শোভাযাত্রা দিলে সমস্যা মিটে যাবে।
তারপর মন্ত্রী বললেন, মঙ্গল আর আনন্দ’র দরকার নেই, নাম হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা।
কিন্তু সমস্যা হলো মঙ্গল, আনন্দ, বৈশাখী –এই তিনটিই খাঁটি সংস্কৃত শব্দ।
সুতরাং সংস্কৃত শব্দ বাদ দিতে হবে। ৯০% মুসলমান সংস্কৃত শব্দকে হিন্দু শব্দ বলে মনে করে। তাদের ভয় তারা সংস্কৃত শব্দ উচ্চারণ করলে তাদের হিন্দু পূর্বপুরুষ শ্মশান থেকে উঠে এসে তাদের ঘর বাপসি করবে, অর্থাৎ হিন্দুতে কনভার্ট করবে।
তারা তাই নিজেদের বিশ্বাস করতে বলে যে আরর লোকদের ঔরষে তাদের অর্থাৎ বাঙ্গু মুসলিমদের জন্ম।
সুতরাং বাংলাদেশে বাংলা নববর্ষে কোনও শোভাযাত্রা যদি করতেই হয়, তাহলে সেই শোভাযাত্রার নাম হতে হবে —
মাসীরা লিল-খাইর।
মাসীরা লিল-খাইর এর অর্থ মঙ্গলের জন্য শোভাযাত্রা। বাঙ্গুদের বাপের ভাষাটিই থাকুক”।
