ঢাকা: হামের প্রাদুর্ভাব দেশে। বিশেষ করে শিশুদের অভিভাবকরা ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। জঙ্গী ইউনূস এই দায় এড়াবেন কী করে? রাষ্ট্র তাঁর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবে সেটা একমাত্র রাষ্ট্র জানে!

টিকা নিয়ে সরব হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।

হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ জানতে চেয়েছেন তিনি ।

আজ বুধবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলেন।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, একবার হাম আক্রান্ত হলে শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বছরের পর বছর দুর্বল থাকে। যার ফলে অন্য কোনো সাধারণ রোগেও সে মারা যেতে পারে।’

তবে এর জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টাকে খুব গুরুত্ব দেন না। অর্থাৎ টিকা নেই তো কী হয়েছে? এমন ভাবে উত্তর করলেন।

বলেন, ‘জাতিকে যদি আমরা খুব ভয় দেখিয়ে ফেলি, তাহলে কিন্তু জাতি রোগাগ্রস্ত হয়ে যায়। রোগীর পাশে ইতিবাচক কথা বলতে হবে। হাম কিন্তু আমারও ছোটবেলায় হয়েছে। নিশ্চয়ই আপনারও হয়েছে। সব শিশুর হাম হয়, আমরা কিন্তু সব মরে যাইনি। আমাদের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের শরীরে একদিক দিয়ে পুষ্টি ঘাটতি হয়, অন্যদিক দিয়ে আসে। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।’

‘আমাদের যে হাম হচ্ছে, এটা বিগত দুটি সরকারের ব্যর্থতার কারণে। রিকোভারও হচ্ছে, আমরা মোকাবিলা করছি,’ যোগ করেন তিনি।

এর আগে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একটি জনপদে হামের মহামারি রুখতে হলে ৯৫ শতাংশের বেশি শিশুকে দুই ডোজ এমআর টিকা দিতে হয়। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে যে গ্যাপ তৈরি হয়েছে, তার সুযোগ নিচ্ছে এই ভাইরাস।’

‘এর মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করেছে দেড় বছর এবং এই দেড় বছরে কর্মকর্তাদের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে, নতুন করে টিকার কোনো অর্ডার দেওয়া হয়নি। আমাদের যারা স্বাস্থ্যকর্মী আছেন, যারা টিকা পরিবহন করেন, গত ৯ মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাননি।

আমাদের প্রায় ৩৫টি জেলাতে ৪৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী বা টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত—এমন জনবলের অভাব আছে। প্রায় অর্ধেক জেলায় এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব আছে। সব কিছু মিলিয়ে আজকে হামের এই ভয়াবহতা’।

এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, ‘সম্প্রতি ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে বিশ্বজুড়ে হামের সংক্রমণ ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশেও তার ঢেউ এসেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা এবং ঘনবসতিপূর্ণ শহরের বস্তিগুলোতে, যেখানে একটি ঘরে অনেক বেশি সংখ্যক লোক থাকে এবং একটি ঘরের সঙ্গে আরেকটি ঘরের দূরত্ব নেই। সেই জায়গাগুলো এখন হামের হটস্পটে পরিণত হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘৯ মাস আগে থেকে পোর্টাররা বেতন পান না, এটা সত্যি। আমরা ক্ষমতায় এসেছি আজকে ৫১ দিন চলছে। ৫ এপ্রিল টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগে আমরা ইপিআই স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বসেছি। আমরা তাদের সন্তুষ্ট করেছি, আজকে সকালে সচিবালয়ে বৈঠক করেছি। দুএকদিনের মধ্যে বেতন দেওয়া শুরু করব।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *