ঢাকা: কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের, সংসদে বিল পাস।

জাতীয় সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল‑২০২৬ পাস হয়েছে। এতে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ অবস্থায় রাখা হচ্ছে।

একপাক্ষিক সংসদে একপেশে বিল পাসের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানায় আওয়ামী লীগ। এবং এই বিষয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আজ বাংলাদেশের মহান সংসদ কলঙ্কিত হল। ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি হলো।

তথাকথিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গঠিত সংসদ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ না করে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিল পাস করেছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি’।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মহান জাতীয় সংসদ একটি পবিত্রতম স্থান। দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বাতাবরণ মেলে ধরে। সেই মহান সংসদকে ব্যবহার করে স্বাধীনত ও দেশবিরোধী শক্তির আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় এহেন অপতৎপরতা।

এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নেওয়া পদক্ষেপ নয়; বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, সুষ্ঠু রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত।

ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের পথ বেয়ে গড়ে ওঠা গণমানুষের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গণতন্ত্রের মূল চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং রাষ্ট্রকে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক ধারার দিকে ঠেলে দেয়।

একই তা ইতিহাসের প্রতি রক্তচক্ষু দেখানো। যা দেশের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যকারিতা নির্ভর করে জনগণের উপর। জনগণের প্রিয় সংগঠন হয়ে থাকলে পৃথিবীর কোনো শক্তি প্রয়োগ করে সেটা আটকানো যায় না।

দমন-পীড়ন, নিষেধাজ্ঞা বা আইনের অপপ্রয়োগ কখনোই স্থায়ী সমাধান বয়ে আনতে পারে না; বরং এটি সমাজে অস্থিরতা ও বিভাজন সৃষ্টি করে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অন্তরায়।

এই প্রেক্ষাপটে আমরা দেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে শামিল হোন’।

জনগণ ও গণতন্ত্রের বিজয় অবশ্যম্ভাবী এই আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *