ঢাকা: এলপিজি সিলিন্ডারের দরদাম নিয়ে মারাত্মক ভুক্তভোগী হচ্ছে পরিবারগুলো। সবসময়, যে কোনো সংকটে ধনীদের কোনো সমস্যা হয় না, হয়তো তাদের মাসের বাজেট একটু বাড়ে কিন্তু তারপরেও তারা চালিয়ে নিতে পারে সংসার।
সবচেয়ে মাথা কাটা যায় নিম্ন আয়ের মানুষের। কারণ তাদের একমাসে কতটাকা দিয়ে চলতে হবে, এটা নির্দিষ্ট করা থাকে। একটু হেরফের হলেই ভীষণ সমস্যায় পড়তে হয়। আর গরীবের কথা বাংলাদেশের সরকার চিন্তা করে না।
বিশেষ করে ইউনূস সরকার , বর্তমান বিএনপি সরকার তো নয়ই।
তিতিবিরক্ত হয়ে যাচ্ছে মানুষ এলপিজির সমস্যায় ভুগতে ভুগতে।
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ পরিবারগুলো। নিয়মিত এই গ্যাস সংগ্রহ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ‘নানা সংকট’ ভোগ করে ত্যাক্ত জনগণ।
এক লাফে ১২ কেজি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম ৩৮৭ টাকা বাড়ানোর পরেও সরকার নির্ধারিত এ দরে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।কোথাও নেই।
এমনিতেই একবারে এত দাম বাড়ানোতে ক্ষুব্ধ মানুষ; এর সঙ্গে বিক্রেতাদের একের পর এক অজুহাতে ‘গ্যাস আছে-গ্যাস নেই’ এমন লুকোচুরিতে অসন্তুষ্টির মাত্রা চরমে উঠেছে।
যুদ্ধের কারণে সংকটের দোহাই দিচ্ছে। কিন্তু এর অনেক আগে থেকেও কিন্তু গ্যাস মিলছিল না। তখন দোকানদার যেমন খুশি তেমন দাম রেখেছে।
“এখন সরকার দাম বাড়ানোর পরও সেই দামে গ্যাস পাচ্ছি না। ১২ কেজির সিলিন্ডার ২১০০-২২০০ টাকার নিচে কোথাও নাই।”
১৭০০ টাকায় ১২ কেজির যে সিলিন্ডার মিলছিল তা সরকার দর বাড়ানোতে আরও বেড়েছে ৪০০-৫০০ টাকা। তাহলে সরকার দাম বাড়াতে গেল কেন?
আরো একজন বলছেন, ‘ আমি প্রায় ১ মাস আগেও ১২ কেজির যেই গ্যাস সিলিন্ডার কিনলাম ১৩৫০ টাকায়, সেই জিনিসটারই দাম এখন ২২০০ টাকা প্রায়।
যেই সয়াবিন তেল কিনলাম লিটার প্রতি ১৭০- ১৮০ টাকায়, তারই বর্তমান দাম ২২০- ২৩০ টাকা। এমন আরো বিভিন্ন জিনিসের দাম হুর হুর করে বেড়েই চলেছে।
এমন চলতে থাকলে এই সরকারের প্রতি সাধারণ জনতা এমনিতেই আজ না হয় কাল ফুঁসে উঠবেই’।
হাইমচরের আলগী বাজারে ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস ২২০০ টাকা করে খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে। দেখার কেউ নেই।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে এলপিজি (LPG) গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (BERC) ২ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দাম অনুযায়ী, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১,৩৪১ টাকা থেকে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১,৭২৮ টাকা নির্ধারণ করেছে। এই নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৪৪.০৪ টাকা।
জনগণ আরো বলছে, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কোনো দোকানদার মেমো বা রসিদ দিতে চায় না। মেমো ছাড়া অভিযোগ দেওয়াটাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি দেখার কি কেউ নেই’?
ভোক্তা অধিকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছে দেশবাসী, শুধুমাত্র নির্দেশ নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে কঠোর অভিযান চালানো হোক।
এটাকে সরকারের অদক্ষতা বলা যায়। উদাসীনতা বলা যায়। মজুত পর্যাপ্ত থাকার পরও কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়, আর সরকার নীরব থাকে, তখন প্রশ্ন জাগে এই নীরবতা কি অপারগতা, নাকি ইচ্ছাকৃত?
