ঢাকা: আওয়ামী লীগকে কি আসলেই নিষিদ্ধ করা যায়?

জাতীয় সংসদে তথাকথিত “সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬” পাসের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহী ও গণমানুষের রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত হচ্ছে চরম ফ্যাসীবাদী সিদ্ধান্ত।

এমন অগণতান্ত্রিক ভাবধারা নিয়ে বিএনপি চলতে পারবে?

এটি সরাসরি ফ্যাসিবাদী পদক্ষেপ, গণতন্ত্র বিরোধী ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় দমননীতির নগ্ন বহিঃপ্রকাশ‌।

এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামো, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকারের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

স্পষ্ট ভাষায় এর বিরোধিতা করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘তারেক তো মনে হচ্ছে ইউনুসের এক্সটেনশান। ভেবেছিলাম ইউনুস দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন, নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক দেশটাকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাবেন। ওমা, উনিই তো মনে হচ্ছে ইউনুস থাকলে যা যা করতেন, তা-ই করে চলেছেন’।

তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘তাহলে তারেকও দেশ গড়তে নয়, ইউনুসের মতো প্রতিশোধ নিতে এসেছেন!! কোনও রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা গণতন্ত্রের কাজ নয়।

তারেক গণতন্ত্রকে যেভাবে হত্যা করলেন, তাঁর ঘাড়ে চড়ে শক্তিশালী হয়ে জামাত জিহাদিরা একদিন তাঁর ঘাড় মটকে খাবে। বিএনপিকেও এভাবে হয়তো নিষিদ্ধ হতে হবে’।

মূলত, ইতিহাসকে নিষিদ্ধ করা যায় না, বাংলাদেশের শেকড়ের বিরুদ্ধে যেকোনো সিদ্ধান্তের জবাব নিশ্চয়ই দেবে জনগণ।

কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলে, সেটি কেবল রাজনৈতিক ভুল না—এটা জাতির শেকড়কে অস্বীকার করা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *