ঢাকা: আবু সাঈদকে হত্যা করা হয়েছে আন্দোলনকে তরান্বিত করার জন্য। জামাত শিবিরের লাশ দরকার ছিলো। সেই লাশ হচ্ছে আবু সাঈদ। কালো গেঞ্জি, দুই হাত প্রসারিত আবু সাঈদ।

আসল অপরাধীকে বাঁচাতে দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়া হয়েছে।

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া এক আসামিকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।

তিনি বলেন, আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে কোনো গুলির চিহ্ন ছিল না, অর্থাৎ কোনো ছিদ্র পাওয়া যায়নি। তার ডেডবডিতেও (মরদেহ) কোনো ধরনের গর্ত বা ক্ষতের চিহ্ন ছিল না।

এমনকি দেহে এক্স-রে বা অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। ফলে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি।

বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ১২ বোর শর্টগানের কার্টিজ ব্যবহার করে গুলি করার অভিযোগ আনা হলেও সেই কার্টিজ জব্দ করা হয়নি। এ বিষয়ে তারা আদালতে একাধিক পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।

আইনজীবী দোলন জানান, আসামিপক্ষের পক্ষে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে লিখিত যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রত্যাশিতভাবে খালাস না পাওয়ায় তারা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে আপিল বিভাগে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিল শুনানির মাধ্যমে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।

দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।

তিনি তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুকে লেখেন:

“এই শিবির সন্ত্রাসীটির মৃত্যুর জন্য দুজন পুলিশকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে? আচ্ছা, কয়েকশো পুলিশকে হত্যা করার জন্য কটা শিবির সন্ত্রাসীকে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে?”

অবশ্য এই প্রশ্নের জবাব তারেক রহমান সরকারের কাছে নেই। কারণ এই সরকার হয়েছে এখন কাঠের পুতুল।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *