ঢাকা: মঙ্গল শোভাযাত্রা ছোট হতে হতে, পরিবর্তন হতে হতে বৈশাখী শোভাযাত্রা হয়েছে! আর এখন নাকি মুখোশের ব্যবহারও করা যাবে না।
এইবছর যদিও উদযাপিত হচ্ছে, তবে মনে হয় না আগামি বছর আর থাকবে। ভয়াবহ অবস্থা।
ইউনেস্কো ঘোষিত কালচারাল হেরিটেজ “মঙ্গল শোভাযাত্রা” মনে হয় না আর বাঙালি উদযাপন করতে পারবে।
শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাশ্রমে মুখোশ, ছবি, পাখি বা অন্যান্য সব জিনিস তৈরি করে।
এই শোভাযাত্রা অনুষ্ঠানটি চারুকলা অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ, প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা সফল করে তোলে।
তবে বাঙালির সংস্কৃতিতে শকুনের থাবা পড়েছে। বাঙালি সংস্কৃতিকে ইসলাম বিরোধী সাজানো হচ্ছে। আর এখনের সরকার জামাতের কাঠ পুতুল, যেভাবে নাচাচ্ছে সেভাবে নাচছে।
মঙ্গল শোভাযাত্রা আনন্দ শোভাযাত্রা হয়ে এবার বৈশাখী শোভাযাত্রায় এসে ঠেকেছে। মঙ্গলকে বাদ দিলেও বৈশাখী, শোভা, যাত্রার ভাগ্য এখনও অপরিবর্তিত আছে। সেটাও হয়তো হঠাৎ একদিন উবে যাবে।
সরকার এখন মঙ্গল শোভাযাত্রার মুখোশের পেছনে পড়েছে।
তারেক রহমানের সরকার কী আদৌ জানে কেন মঙ্গল শোভাযাত্রায় মুখোশের অর্থ কী?
বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপনকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈশাখী শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না। তবে মুখোশ হাতে বহন করা যাবে।
প্রদর্শনীর জন্য তৈরি মুখোশ এমনভাবে উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তা দিয়ে মুখ ঢেকে না থাকে।
কেন? এই মুখোশ কী জঙ্গীর মুখোশ? মুখোশের আড়ালে কি জঙ্গী আছে? এই মুখোশ কি হিজাব? বোরখা? যে এগুলো পরে ভিতরে পুরুষ না মহিলা বোঝা যায় না, কে অস্ত্র বহন করছে, কে মাদক বহন করছে বোঝা যায় না!? কী ভেবেছে এই সরকার?
লোকসংস্কৃতি বলে যে একটা শব্দ আছে সেটা এই স্মার্ট সরকার জানে?
শোভাযাত্রায় মুখোশ ব্যবহার করা হয় মূলত অশুভ শক্তিকে দূর করে শুভ বা মঙ্গলের বার্তা নিয়ে আসার প্রতীকী হিসেবে।
এই মুখোশগুলো বাংলার লোকজ ঐতিহ্য, বাঘ, পাখি বা পেঁচার মতো প্রাণীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলে এবং নতুন বছরে অমঙ্গল দূর করে সমৃদ্ধি কামনায় ব্যবহার করা হয়।
এগুলো অশুভ অশক্তিকে দূরে রাখার প্রতীকী উপস্থাপনা।
মুখোশ, মাটির সরা, হাতি, বাঘ, পাখি বা টেপা পুতুলের অবয়ব লোকশিল্পের অংশ, যা বাঙালিয়ানাকে তুলে ধরে।
পহেলা বৈশাখের এই শোভাযাত্রায় আনন্দের প্রতীক হিসেবে বিভিন্ন রঙিন মুখোশ ব্যবহার করা হয়, যা বর্ণাঢ্য আয়োজনকে আরও ফুটিয়ে তোলে।
বাঙালিয়ানা, বাঙালির সৌন্দর্য বুঝবে কী করে বাঙালি বিরোধিরা?
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত একটি কার্যপত্র জারি করে বিষয়টি জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর নতুন করে কাউকে এতে যুক্ত হতে দেওয়া যাবে না।
একই সঙ্গে ইংরেজি বা অন্য ভাষার কিংবা ভিন্ন উদ্দেশ্যের প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা জোরদারের কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে আয়োজিত সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নববর্ষের সব অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
