ঢাকা: জ্বালানি সংকটে ট্রলার বন্ধ, জেলে বসে—এটা শুধু একটি সমস্যা না, এগুলো সরাসরি ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।
বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে এক অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কোনো কাজ করতে পারছে না মানুষ। এইভাবে কয়দিন চলবে?
যদিও বিশ্ববাজারের দোহাই দিয়ে ঢাকা দেয়ার চেষ্টা চলছে, তবুও এই সংকটকে আড়াল করার চেষ্টা করা হলেও, গভীর পর্যবেক্ষণে দেখা যায় এটি মূলত প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফসল।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে শুরু করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচিত সরকার—উভয় পক্ষই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।
সরকারের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে কালোবাজারিরা জ্বালানি খাতকে জিম্মি করে ফেলেছে। সাধারণ মানুষ তো বরাবর জিম্মি কালোবাজারিদের কাছে।
সবচেয়ে কঠিন বাস্তবতা হলো, চোর ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন দায়িত্ব নেয়, তখন তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল সংস্কার। এই সংস্কারের কথা বলে সারা দেশ লুটে একদম গহ্বর বানিয়ে ফেলেছে এরা।
একটা ভুয়া সংস্কারের পেছনে সময় দিয়েছে আর সবাই লুটপাট করেছে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এবং জ্বালানি আমদানির মতো জরুরি বিষয়গুলোকে অবহেলা করা হয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেয়ার পর ধারণা ছিলো পরিস্থিতি পরিবর্তন করতে পারবে। কিন্তু না।
অভিযোগ উঠেছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নিয়েছেন।
পেট্রোল পাম্প থেকে শুরু করে তেলের ডিপো পর্যন্ত এখন নতুন করে চাঁদাবাজি ও দখলবাজির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
আর দলীয় ছত্রছায়ায় পাম্প মালিকরা তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষকে তেল না দিয়ে সেই তেলই রাতের আঁধারে কালোবাজারে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে।
সরকারের নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অভাব এই পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে।
আর সাধারণ মানুষ কাজ না করে, না খেয়ে মরুক! কার কী আসে যায়!?
আর এই তেলের সংকটে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাকের ভাড়া নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে, ফলে বাজারে প্রতিটি নিত্যপণ্যের দাম এখন সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। সমস্যার শেষ নেই।
কলকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি না থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের রপ্তানি আয়ের ওপর।
জ্বালানি সংকট শুধু একটি সাময়িক সমস্যা নয়—এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, জনজীবন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।
এমন পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বণ্টন নিশ্চিত করা, এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব বন্ধ করা—এই বিষয়গুলো এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
