ঢাকা: রান্নাঘরে কান্নার রোল পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশে। বাজারে জিনিসের দামে যেমন আগুন লেগেছে তাতে মনে হয় মানুষ আর কয়দিন পর খেতে পাবে না।
একেই এলপিজি ১২ কেজির দাম ২২০০/২৩০০ টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে, এখন যদি জিনিসের দাম এত বাড়ে- মানুষ খাবে কী? মাসিক আয় তো বাড়েনি!
এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে যাবে। বাজারে যে ধরনের সিন্ডিকেট চলছে, তা দ্রুত ভাঙা খুবই জরুরি, সাথে কঠিন শাস্তি। না হলে অচিরেই অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সব কিছুর দাম আরও দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে।
কিন্তু দেখবে কে? এই দেশে সরকার আছে? নজরদারি করার ব্যক্তি আছে?
এক মাসের ব্যবধানে সোনালী মুরগির দাম ৮০ টাকা বেড়ে ৪৩০ টাকা আর ব্রয়লার মুরগি এক দিনের ব্যবধানে ২০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভাবা যায়?
ঈদের আগেই সোনালি মুরগি বিক্রি হতো ৩৪০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা এবং ব্রয়লার ১৭০ টাকায়।
আজ (শুক্রবার) রাজধানীর রামপুরা, আফতাবনগর, মহাখালী কাঁচাবাজার ঘুরে এই ছবি দেখা যায়।
এদিকে, ২২০ টাকার নিচে বাজারে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না।
বিক্রেতারা জানান, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যেক মাছেই কেজিতে ২০ থেকে ৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়া মাছের আমদানিও কমে গেছে।
ইলিশ তো আর খেতেই হবে না। আকাশছোঁয়া দাম। পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশের দাম নাগালের বাইরে চলে গেছে।
আজ ৬০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ইলিশ ২৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। আর ৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৮০০ টাকায়। এক কেজি ওজনের মাছ ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সংকটে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্য শ্রেণির ক্রেতারা।
ঈদের পরে এখন সেখানে শুধুই হাহাকার।
এদিকে, মুরগির ব্যবসায়ীরা বলছেন, পোলট্রি ফিড (খাবার) এবং ওষুধের দামবৃদ্ধির কারণে অনেক প্রান্তিক খামারিই লোকসান সইতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে, উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
তাছাড়া বড় বড় কোম্পানিগুলি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তাঁদের।
সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের পক্ষে সোনালি মুরগি, ইলিশ এইসব এখন বিলাসিতা হয়ে যাচ্ছে।
তেলের দামের প্রভাবে বাজারে সব জিনিসের দাম বেড়ে যাচ্ছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজনের উপর কী প্রভাব পড়ছে, তা কল্পনাও করা যাচ্ছে না। আর সরকার তো সরকারই।
