ঢাকা: শিরীন শারমিন চৌধুরীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন যে চালানো হয়েছে তা তাঁর চেহারাতেই স্পষ্ট।
এবং মিথ্যা ও বানোয়াট হত্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর ওপর সংঘটিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
শিরীন শারমিন চৌধুরী মহান জাতীয় সংসদে সংবিধানসম্মত পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং তিনি দেশের প্রথম নারী স্পিকার।
একজন মেধাবী, পরিশীলিত ও মানবিক বোধসম্পন্ন নারী রাজনীতিবিদের প্রতি এ ধরনের অমানবিক আচরণ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
শিরীন শারমিন চৌধুরীর আটক, হেফাজতে নেওয়া, গ্রেপ্তার দেখানো এবং আদালতে উপস্থাপনের সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো বিবৃতিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
আসকের এক বিবৃতিতে আসক শিরীন শারমিনের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় অস্বচ্ছতা ও অনিয়মতান্ত্রিকতার অভিযোগও এনেছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাতে ধানমন্ডিতে আত্মীয়ের বাসায় অবস্থানকালে সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, মধ্যরাতে একজন নারীকে এভাবে আটক দেখানো যৌক্তিক নয়। দিনের বেলায় স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্রেপ্তার কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল কি না, তা স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
আসক জানিয়েছে, আদালতে উপস্থাপনের সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ন্যূনতম শৃঙ্খলা ও মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা ঘাটতির কারণে তাকে হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়ে যেতে দেখা গেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিচার প্রার্থী প্রত্যেক ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্বের অংশ।
সংস্থাটি মনে করে, গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন, ফৌজদারি কার্যবিধি এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা অপরিহার্য।
এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে।
