ঢাকা: দেশের আমদানি ব্যয় খুব দ্রুত বাড়ছে। এবং একই সময়ে কমে যাচ্ছে রপ্তানি আয়।

এতে গত ফেব্রুয়ারি মাস শেষে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে প্রায় ১৭ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। আর আগের মাস জানুয়ারি শেষে যেখানে ঘাটতি ছিল ১৪ বিলিয়ন ডলারের নিচে। যা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানি আয় প্রত্যাশিত হারে না বাড়ায় এ ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন।

সরকার বলছে, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বাড়িয়েছে। তারা রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করতে নতুন নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে সাধারণ মানুষ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই লিখছেন, বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লে দেশের অর্থনীতি আরও চাপে পড়বে। আবার কেউ কেউ মনে করছেন, রপ্তানি খাতকে বৈচিত্র্যময় করাটা অত্যন্ত জরুরি।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি খাতকে শক্তিশালী করা ছাড়া আর বিকল্প নেই। তারা বলছেন, প্রযুক্তি, কৃষি ও শিল্প খাতে নতুন বাজার তৈরি করতে হবে।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, তিন কারণে বাংলাদেশ বর্তমানে কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা, দেশের ভেতরে কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও বৈদেশিক বাণিজ্যের ব্যয় বৃদ্ধি এবং আর্থিক চাপ। এসব কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক ঋণের ঝুঁকি বাড়ছে।

আগের ঋণ পরিশোধের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়েছে। এ অবস্থায় রিজার্ভ ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এদিকে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় বাংলাদেশকে আগের চেয়ে অনেক বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যা সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রার মজুদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

রপ্তানি আয়ের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মার্চ মাসে রপ্তানিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতা মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে হলে কেবল রেমিট্যান্সের ওপর ভরসা না করে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে এবং জ্বালানি আমদানিতে বিকল্প ও সাশ্রয়ী উৎস খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।

অন্যথায় আমদানির ক্রমবর্ধমান চাপ ভবিষ্যতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *