ঢাকা: উপমহাদেশের সংগীতাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভারতের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী আশা ভোঁসলে নেই, এটা মানা যাচ্ছে না।
আশা ভোঁসলের বয়স হয়েছিল ৯২। শেষ হয়ে গেল দুই বোন আশা লতার কাহিনী।ভারতীয় সঙ্গীত জগৎ চিরকাল তাঁদের মাথায় করে রাখবে।
দিদি লতার মৃত্যুর পরে তাঁকে সেই ভাবে খুব বেশি প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।
তাঁর প্রয়াণে শোকাহত ভক্ত-অনুরাগীদের পাশাপাশি ভেঙে পড়েছেন বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা।শোকপ্রকাশ করেছেন অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীও।
আশা ভোঁসলের মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরপরই গভীর শোক ও আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানান রুনা লায়লা। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বড় বড় দু’জন কিংবদন্তি শিল্পী পরপর চলে গেলেন।
লতা মঙ্গেশকর দিদি ২০২২ সালে চলে গেলেন, আর এখন আশা দিদিও চলে গেলেন। এমন শিল্পী আর এই পৃথিবীতে জন্মাবে না। আমার কাছে মনে হচ্ছে আমার পৃথিবীটাই শূন্য হয়ে গেল।’
নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘‘তারা দুজনেই আমাকে ভীষণ স্নেহ করতেন- মায়ের মতোই। এই কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আমার শেষ দেখা হয়েছিল আমার সুর করা গান ‘চলে যাওয়া ঢেউগুলো আর ফিরে আসেনি’-এর রেকর্ডিংয়ের সময়।
এরপর ফোনে যোগাযোগ হয়েছে, কিন্তু কিছুদিন ধরে ভাবছিলাম আবার কথা বলব। আজ করব, কাল করব- এই ভাবনায় আর করা হয়নি। শেষ কথাটাও বলা হলো না।’’
রুনা লায়লা ভীষণ মর্মাহত হয়ে পড়েছেন আশা ভোঁসলের মৃত্যুতে।
বেদনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন মনে হয়েছিল দিদিকে ফোন করি, যদি তখনই করতাম, তাহলে হয়তো আজ এই আফসোসটা থাকত না। নিজের ভেতরে খুব কষ্ট হচ্ছে। এই কষ্ট সত্যিই ভাষায় প্রকাশের নয়।’
উল্লেখ্য, রবিবার দুপুরে মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন আশা ভোঁসলে।হৃদরোগ ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে শনিবার তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো।
ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের চিকিৎসক ড. প্রতীত সামদানি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। সোমবার বিকেল চারটেয় শিবাজী পার্কে আশা ভোঁসলের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে খবর।
