ঢাকা: পয়লা বৈশাখ নিয়ে মৌলবাদী গোষ্ঠীর অনেক সমস্যা। এদের মতো অসভ্য মুখের ভাষা বোধহয় একটা পাগলেরও নেই। এইরকম নোংরা, অশ্লীল এই উগ্রবাদী, ধর্মান্ধ গোষ্ঠীরা।
যা ইচ্ছা তাই বলে যাচ্ছে এরা। কোনো অ্যাকশন নেই রাষ্ট্রের।
শায়েখ আব্দুর রাজ্জাক বিন ইউসুফ প্রকাশ্যে পহেলা বৈশাখ—যা বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক—তার প্রতি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন।
তিনি একদম সরাসরি বলেছেন, “পয়লা বৈশাখের মুখে লাথি মারি”! এখন সেটা কি কোনো অপরাধের মধ্যে পড়ে না? এটা কি কেবল ব্যক্তিগত মত, নাকি একটি জাতির সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের প্রতি সরাসরি আঘাত?
নাহ! এদের বিরুদ্ধে কোনো আইন নেই। যত আইন হিন্দুদের জন্য। এইতো ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তুলে মেরে ফেলা হলো পীরকে! কুষ্টিয়ার ঘটনার। এমন আরো আছে।
বাংলাদেশে একটা অদ্ভুত দ্বিমুখী বাস্তবতা আমরা বারবার দেখি—ধর্ম অবমাননার অভিযোগ উঠলেই মুহূর্তে মব তৈরি করে হত্যা করা হয়। কোনো বিচার নেই।
ধর্ম অবমাননা হয় কেবল ইসলামের ক্ষেত্রেই, অন্য ধর্ম, সংস্কৃতি বা জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা কোনো অবমাননা নয়।
আইন কি সবার জন্য সমান নয়?নাকি কিছু ক্ষেত্রে তা নীরব থাকে? প্রশ্ন তো থাকেই।
পয়লা বৈশাখে আজ থেকে সমস্যা নয় উগ্রবাদীদের, অনেক আগে থেকেই সমস্যা। শেখ হাসিনার সময় পারেনি কিছু করতে তেমন।
এইতো ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম বদলে হয়ে গেলো ‘বৈশাখি শোভাযাত্রা’! হিন্দুয়ানি ঘুঁচিয়ে বেশ মুসলমানি করানো হলো। মঙ্গল নাম শুনলেই ভূতে ধরে তাদের।
তা মুসলমানি ঠিকঠাক হলো তো মশাই? নাকি বাকি থেকে গেলো? আমার তো মনে হয় বাকি থেকে গেলো!
উগ্রবাদীরা হচ্ছে দিব্যজ্ঞানী। হাহা! ব্যঙ্গ করে বললাম।
বিশাখা মানে দুই শাখা। পুরাণে আছে, ইন্দ্র আর অগ্নি এই দুই দেবতার মিলিত রূপ হলো বিশাখা। বিশাখা নক্ষত্র এবং বৈশাখ মাস উভয়েই এই দুই দেবতার মিলিত রূপকে স্মরণ করায়।
আচ্ছা বৈশাখি শব্দটিকে ইসলামি শব্দ হিসেবেই ধরে নিলাম। এইবার বলুন তো শোভা, যাত্রা ও শোভাযাত্রা এর মধ্যে কোনটি ইসলামি?
মাননীয়, সংসদ, সদস্য, বিরোধী, দলীয়, নেতা- এ সবই হিন্দুয়ানী। শুক্র, বার, শুক্রবার– এ সব হিন্দুয়ানী। আপনার পূর্বপুরুষও হিন্দু ছিলেন। সব হিন্দু। হাহা!
