ঢাকা: ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা, অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা ‘! নববর্ষে বাঙালির প্রার্থনা থাকে এমনই।

হাজার বছরের ঐতিহ্য আর বাঙালির প্রাণের স্পন্দন নিয়ে আবার দুয়ারে কড়া নাড়ছে পহেলা বৈশাখ।

এই উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়, অসাম্প্রদায়িক চেতনা আর শিকড়ের দিকে ফিরে তাকানোর এক সুন্দর সময়।

তবে সুন্দর বলছি যদিও বাস্তবে বড় কঠিন সময়। বাঙালির আত্মপরিচয়কে চাপাতি দেখিয়ে ভুলিয়ে দেয়া হচ্ছে। বড় নির্দয় হয়েছে আজ বাংলাদেশ!

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে নেই। দেশে থাকতে দেশে জনমানুষের সাথে উদযাপন করতেন পয়লা বৈশাখ।

এই সময় ফেসবুকেই জানালেন শুভেচ্ছা। আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেইজে শুভেচ্ছা বার্তাটি দেয়া হয়।

শেখ হাসিনা পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে বলেছেন:

’মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা,
অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা।’

প্রিয় দেশবাসী,

সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।
বাঙালির জাতীয় ঐতিহ্যের প্রধান উৎসব বাংলা নববর্ষ। এদিন নতুনের বার্তা নিয়ে দুঃখ, জরা, ব্যর্থতা ও মলিনতা ভুলে সবাই জেগে ওঠে আনন্দে।

ফসলি সন হিসেবে মোঘল আমলে যে বর্ষগণনার সূচনা হয়েছিল, সময়ের পরিক্রমায় তা আজ সমগ্র বাঙালি সংস্কৃতির এক স্মারক উৎসবে পরিণত হয়েছে।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এটি এখন বৈশ্বিক বাঙালির প্রাণের উৎসব। পরাধীন বাংলাদেশে পাকিস্তানি সরকার বাঙালিকে শেকড়চ্যুত করার কৌশল হিসেবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনে বাধা দিয়েছিল।

বাধা দিয়েছিল বাংলা ভাষার প্রধান লেখক বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম শতবর্ষ উদযাপনেও। ফলে স্বাধীন বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ হয়ে ওঠে বাঙালির জাতীয় জাগরণ ও বাংলাদেশের মানুষের ঐক্য ও সম্প্রীতির প্রতীক”।

শেখ হাসিনা আরো বলেন,

“প্রিয় ভাই ও বোনেরা,
পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা এখন বিশ্ব-ঐতিহ্যের অংশ। আওয়ামী লীগ সরকারের চেষ্টায় ইউনেস্কো এটিকে বিশ্ব সংস্কৃতির ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।

পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আমাদের সরকার চাকরিজীবীদের ‘বৈশাখী ভাতা’চালু করে। আমরা দেখছি, স্বাধীনতাবিরোধী ও অসাংবিধানিক সরকার বাঙালির এই উৎসবকে ধ্বংস করতে তৎপর ছিল, যা এখনও চলমান।

তারা মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। তৎকালীন বাংলার নতুন ফসল ঘরে তোলার সূত্র ধরে আবহমান কাল ধরে গড়ে ওঠা লোকজ ঐতিহ্যকে অনুসরণ করে কৃষিভিত্তিক সমাজের অর্থ বর্ষ গণনাই কালক্রমে নতুন বছরের উৎসব হয়ে ওঠে।

চীন, ইরাননহ দেশে দেশে নতুন বছরের উৎসবই দেশের প্রধান উৎসব হয়ে আছে। বৈশাখী উৎসব এই নৃতাত্ত্বিক ধারারই আরেকটি স্মারক। ধর্মকে পুঁজি করে এই উৎসবকে বাধাদান ভেদবুদ্ধিরই নামান্তর”।

“প্রিয় দেশবাসী,

আমরা বিশ্বাস করি বৈশাখী উৎসব উদযাপনের অগ্রযাত্রায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ ফিরবে।

সবাইকে আবারো নববর্ষের শুভেচ্ছা।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
আঁধার কেটে ভোর হোক
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *