ঢাকা: ঈদ বা পূজা নয়, বড়দিন বা বৌদ্ধ পূর্ণিমা নয়, বাংলা নববর্ষই বাঙালির সর্বজনীন উৎসব। সবাই এই অসাম্প্রদায়িক উৎসবে আনন্দ করতে পারে।

একমাত্র পয়লা বৈশাখেই ধর্মীয় বিভেদ ভুলে সবাই মিলিত হতে পারে উৎসবে ও আনন্দে।

মৌলবাদী শক্তি সব সময় চেয়েছে, এখনো চাইছে যেন বাঙালি পালন না করে পয়লা বৈশাখ।

কখনো ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে, কখনো মনগড়া হিন্দুয়ানি তত্ত্ব দিয়ে এই প্রাণের পয়লা বৈশাখ ঠেকাতে চেয়েছে তারা। তবে তারা থামাতে পারেনি উৎসবের রোশনাই।

বহু আঘাত এসেছে। কিন্তু থামেনি। তবে এবারের আঘাতটা অন্যরকম মনে হলো। এবং আগামি বছর যদি পালন হয়, তবে বলবো নাহ! পালন হয়েছে!

পাকিস্তান আমলে পয়লা বৈশাখ পালন করতে দিতে চায়নি পাকি জান্তারা। অসংখ্য মানুষ তার প্রতিবাদ করেছে, ছায়ানট শুরু করেছে রমনায় প্রভাতী অনুষ্ঠান।

স্বাধীন দেশে রমনায় বোমা হামলা করা হয়েছে অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য। তবে মনেপ্রাণে বাঙালিরা পালন করে গেছেন এই উৎসব।

আসলে বাংলা নতুন বছরে ছড়িয়ে পড়ে ভালোবাসা, এর আনন্দ একদম আলাদা। ষার মৌলবাদীরা আনন্দ চায় না। তারা চায় ধর্ষণ, হত্যা।

আজ পহেলা বৈশাখ, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ সনে পা রাখলো। বছরের প্রথম দিনটিকে বরণ করল ছায়ানট। রাজধানীর রমনার বটমূলে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে দিনটিকে বরণ করা হয়।

মঙ্গলবার (১ বৈশাখ) ভোরের আলো ফুটতেই বাঙালির প্রাণের এই উৎসবে মিলিত হন হাজারো মানুষ।

সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ আয়োজনের সূচনা হয় সম্মেলক কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গান পরিবেশনার মধ্য দিয়ে।

এত সুন্দর প্রকৃতি যেন সবাইকে প্রাণ খুলে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে।

এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে- ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

সবার পোশাক মনকাড়া। লাল-সাদা, নকশিকাঁথা, পাঞ্জাবি, শাড়ি আর ঐতিহ্যবাহী অলংকারে সজ্জিত মানুষের উপস্থিতিতে রমনার বটমূল হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।

অনুষ্ঠানে স্থান পেয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও লালন সাঁই-এর গান। এবং এর পাশাপাশি লোকসংগীত এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ ও জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রর গান পরিবেশন হয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *