ঢাকা: বাংলার সংস্কৃতির ওপর শকুনের থাবা পড়েছে। পয়লা বৈশাখ পালন বন্ধ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মৌলবাদী গোষ্ঠী।
দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ছায়ানট।
বর্ষবরণের সকালে রমনার বটমূল থেকে একটি ভয়হীন ও সহনশীল সমাজ গড়ার ডাক দিয়ে ছায়ানটের সভাপতি সারওয়ার আলী বলেন, আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে গাইতে পারবে এবং বিনা বাধায় সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশ ঘটবে।
১৪৩৩ বঙ্গাব্দের এই আয়োজনে ছায়ানটের পক্ষ থেকে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও ভয়হীন সমাজ গড়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়।
ভাষণে গত এক বছরে ঘটে যাওয়া কয়েকটি উদ্বেগজনক ঘটনার কথা তুলে ধরেন সারওয়ার আলী।
তিনি বলেন, সমাজে সাংস্কৃতিক চর্চা এবং সম্প্রীতির ওপর হুমকি ক্রমশ বাড়ছে।
আরো বলেন, গত বছর পহেলা বৈশাখ ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। একের পর এক সাংস্কৃতিক অঙ্গন হামলার শিকার হতে থাকে।
ছায়ানটের বাদ্যযন্ত্র ভাঙচুর, নালন্দা বিদ্যালয়ের শিশুদের বইপত্র ছিঁড়ে ফেলা এবং সংবাদপত্রের কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া উদীচীর ওপর হামলা এবং বাউলশিল্পীদের হেনস্তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ঘটনা সমাজে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতারই বহিঃপ্রকাশ।
বলেন, সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনো জাতিকে তাড়া করে ফেরে, যা সাংস্কৃতিক জমায়েতগুলোর নিরাপত্তাহীনতাকে বারবার মনে করিয়ে দেয়।
বাঙালির জাতিসত্তার সঙ্গে সংগীতের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা তুলে ধরে সারওয়ার আলী বলেন, ‘সংগীত সব সময় বাঙালির আনন্দ-বেদনার সঙ্গী। মুক্তিযুদ্ধসহ সব অধিকার আদায়ের সংগ্রামে গান আমাদের সাহস জুগিয়েছে। সংগীত ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। কিন্তু একটি গোষ্ঠী ভয়ভীতি দেখিয়ে এই কণ্ঠকে স্তব্ধ করতে চাইছে।’
বাংলা গানকে তার নিজস্ব ঐতিহ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করার অপচেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সমাজে অসহিষ্ণুতা বাড়ছে এবং মতপ্রকাশের কারণে সংঘবদ্ধ হয়রানির ভয় মানুষের মনে চেপে বসছে।
বলেন, ‘বিশ্ববাসী আজ বিপর্যস্ত ও আতঙ্কিত। স্বদেশে আজ নুতন বছরের প্রথম প্রভাতে সবাই কামনা করে বিশ্বশান্তি।’
