ঢাকা: পুলিশ সদর দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে গত ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশের ৬৫টি স্থানে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে ৬৭টি। এবং এর মধ্যে সর্বোচ্চ হামলার ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে।

বিভাগটিতে ২৫ বার মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চট্টগ্রামে ১৫টি, ময়মনসিংহে আটটি, খুলনায় চার, রাজশাহী ও রংপুরে তিনটি করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ভিতরে ভিতরে আরো ঘটনা ঘটেছে। সব হিসাবে আসে না।

এবং সিলেটে ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন এলাকায় দুইবার মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন, খুলনা মেট্রোপলিটন, সিলেট মেট্রোপলিটন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এবং বরিশাল রেঞ্জে একবার করে মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

যারা হামলা করে তাদের হাত খুব পাকা। কাঁচা হাতে তারা হামলা করতে আসে না। জামাতিরা প্রশিক্ষণ দিচ্ছে। সরাসরি জামাতের ব্যাচে না এসে আসছে তৌহিদি জনতার নামে। যারা প্রশিক্ষিত।

কুষ্টিয়াতে মাজারে হামলা করে পীর সাহেবকে হত্যা করেছে মৌলবাদী জামাতি জঙ্গিরা। শাহবাগ থানার সামনে ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটির উপর মব সন্ত্রাস করেছে মৌলবাদীরা।

সারাদেশে ইউনুসের আমলের মতোই এখনো মৌলবাদীদের আস্ফালন দৃশ্যমান।

দেশটা পচনশীল হয়ে গেছে। এখন কেউ উন্নয়নের কথা বলে না। দুই বেলা দুমুঠো আহার যোগানোর কথাই এখন শোনা যায়।

জামাত শিবির ইন্টেরিম সময় থেকেই মাজারে হামলা ও মব করে খুন করে আসছে। কোন বিচার না হওয়াতে এদের সাহস অতিরিক্ত বেড়েছে।

এই জামাতের জঙ্গিপনার হাত থেকে বাঁচতেই মাজারভক্ত, লোকজ সংস্কৃতি ভক্ত সাধারণ মানুষেরা বিএনপিকে ভোট দিয়েছিল। বিএনপি সেই মর্যাদা রক্ষা করতে ক্রমেই ব্যর্থ হচ্ছে। এটা তো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

কুষ্টিয়ায় যে পীরকে হত্যা করা হয়েছে, সেই হত্যাকারীদের শেল্টার দিচ্ছে কুষ্টিয়ার উপরওয়ালা হামজা!

এই কুষ্টিয়াতেই কিছুদিন আগে জামাতের এমপি আমীর হামজা সন্ধার পর টিভি দেখা, ক্যারাম খেলা, রমজান মাসে খাওয়াদাওয়া করা এগুলা বন্ধ করে দেয়।

আর এইগুলার তদারকি করেছে স্বয়ং থানার ওসি। আবার মাজারে হামলা করে মানুষের জীবনটাই কেড়ে নেয়ার ঘটনা তো দেখলাম আমরা সকলে।

এইযে যেই সুন্নী, হিন্দু, বাউল সম্প্রদায় বিএনপি ভোট দিলো এরা আর কোনোদিন বিএনপিকে বিশ্বাসে নেবে? বাস্তবতা হচ্ছে, বিএনপি এখন ভয়ে আছে।

জামাত শিবিরের সন্ত্রাস চলছে দেশজুড়ে।

দুইদিন পর পর ধর্মের নামে মানুষ খুন আর কত? ধর্মে আঘাত দিয়েছে, নবীকে অপমান করেছে এই কথা বলেই মব করে খুন! আর প্রায় খুনের প্যাটার্ন এক।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার কবরকে ‘শরিয়ত পরিপন্থী’ দাবি করে ‘ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটির’ ও ‘তৌহিদি জনতার’ ব্যানারে কর্মসূচি পালন করছিলেন মুসল্লিরা।
ওই কর্মসূচি চলার মধ্যেই

মনে আছে তো নুরাল পাগলার সাথে হওয়া মর্মান্তিক ঘটনা? এই ঘটনা সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছে!

হঠাৎ একদল লোক কবর থেকে নুরাল পাগলার মরদেহ তুলে মহাসড়কের ওপর পুড়িয়ে দেয়। এরা কী শুধুই একদল লোক!? নাহ! মোটেও না! এরা প্রশিক্ষিত জামাতের লোক। জামাত এভাবেই কাজ করছে।

সম্প্রতি কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আব্দুর রহমান ওরফে শামীম পীরের দরবারে হামলার ক্ষেত্রেও একই রকম ছবি দেখা যায়। একদল লোক দরবারে লুটপাট এবং শামীমকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে।

এমন একই ধরনের চিত্র দেশের বিভিন্ন স্থানে মাজারে হামলার অন্যান্য ঘটনাতেও দেখা যায়; যেখানে একটি সংগঠিত গোষ্ঠী হামলা, নৃশংসতা ও লুটপাটে মূল ভূমিকা পালন করে। আসলে এরা সব মিলে আছে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের হামলায় কেবল স্বতঃস্ফূর্ত জনতার অংশগ্রহণ নয়, বরং প্রশিক্ষিত গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *