চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে তীব্র হয়ে উঠেছে বিদ্যুৎ-সংকট। জ্বালানি ঘাটতির কারণে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ। এর ফল ভোগ করছে জনগণ। মারাত্মক অবস্থা। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে মানুষ।
জ্বালানির সংকটে চট্টগ্রামের দক্ষিণ জোনের গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
নগরের বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে লোডশেডিং। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দুর্ভোগে পড়েছেন নগরবাসী। এছাড়াও দেখা দিয়েছে পানির সংকট।
চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১০টি কেন্দ্র থেকে কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না।
বন্ধ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট।
পিডিবি ও চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোল (স্কাডা) সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। ওই সময়ে উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট।
কিন্তু উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়।
বেলা ১১টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট। এদিকে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট।
কোথাও কোথাও, কোনো এলাকায় ১০ ঘণ্টা থাকে না বিদ্যুৎ।
তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প বন্ধ, ফলে পানির সংকটও তীব্রতর হচ্ছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকে নেমে এসেছে।
চট্টগ্রামে প্রতিদিন গড়ে সাত-আট ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। রাজশাহীতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত। ভাবা যায়?
বরিশাল নগরীর রূপাতলির ৩৩ কেভি সাবস্টেশন কন্ট্রোলরুম সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন বরিশাল ও ঝালকাঠিতে বিদ্যুতের চাহিদা আছে ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট। সেখানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪২ মেগাওয়াট।
এই কারণে পিক আওয়ার ও অফ পিক আওয়ারে অন্তত ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। পিক আওয়ারে কিছুটা বেশি থাকে।
খুলনার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চাহিদার অর্ধেকে নেমে এসেছে।
