ঢাকা: বাংলাদেশের মাটির প্রতি মমতা কাজ করে সঙ্গীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্যের।

ভারতের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শ্রীকান্ত আচার্য সপরিবারে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন।

বাংলাদেশি শ্রোতাদের ভালোবাসায় সিক্ত এই শিল্পী এবার পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের ধর্মীয় মন্দিরসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখছেন।

সফরের অংশ হিসেবে তিনি রাজধানীর ঐতিহাসিক ঢাকেশ্বরী মন্দির পরিদর্শন করেছেন।

ঢাকার জনপ্রিয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান বাতিঘরেও গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি।

ভিটেমাটির মায়ার টানে এবং এই মাটির প্রতি গভীর মমত্ববোধ থেকে তিনি বারবার বাংলাদেশে ছুটে আসেন। বিভিন্ন সময়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই গুণী শিল্পী জানিয়েছেন, বাংলাদেশে পা রাখলেই তিনি নিজের শেকড়ের ঘ্রাণ খুঁজে পান।

সেই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সপরিবারে ঢাকা সফরে এসেছেন তিনি।

শ্রীকান্ত আচার্যের মায়ের বাড়ি বিক্রমপুরে।দেশভাগের আগে তাঁর মামারা চলে যান বিক্রমপুর থেকে। মায়ের বাড়ির সূত্রে তাঁর বাংলাদেশের প্রতি ছোটবেলা থেকেই একটি টান রয়েছে।

তবে সেই বাংলাদেশ আর নেই এখন। যে বাংলাদেশের প্রতি শুধু শ্রীকান্ত কেন, শরণার্থী হয়ে ভারতের আসাম, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গে চলে যাওয়া হিন্দু বাঙালিরা এখন বাংলাদেশের নামে আঁতকে ওঠেন। এর যথেষ্ট কারণও তো আছে।

যে মাটি ছেড়ে তাঁরা চলে গিয়েছেন, সেই মাটি একটু হাতে নেয়ার জন্য তাঁরা উৎসুক, আবেগিক হয়ে থাকতেন। অথচ আজ মন ভারাক্রান্ত তাঁদের। পূর্বপুরুষের সেই মাটি দখলে চলে গেছে। একাত্তরে তাঁদের বংশের হয়তো মারা গিয়েছেন, হত্যা করা হয়েছে। প্রবল নির্যাতিত এই হিন্দু বাঙালিরা কোনোদিন মন থেকে এই ট্র্যাজেডি মুছতে পারবেন না।

যাই হোক, প্রচুর মেধাসম্পন্ন, ধীরস্থির একজন মানুষ শ্রীকান্ত আচার্য।

তিনি দক্ষিণী থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীতের আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ওস্তাদ আলী আহমেদ খানের কাছ থেকে তবলার প্রশিক্ষণও গ্রহণ করেন।

বাংলা অ্যালবাম:

এক ঝাঁক পাখি (১৯৯৮, সাগরিকা)
স্বপ্ন দেখাও তুমি (১৯৯৯, সাগরিকা)
“বৃষ্টি তোমাকে দিলাম” (২০০০, সাগরিকা)
নদীর ছবি আঁকি (২০০১, সাগরিকা)
মনে পড়ে (২০০২, সাগরিকা)
শুধু ভাল থেকো (২০০৩, আটলান্টিস মিউজিক)
কাছে আছি (২০০৩, সাগরিকা)
ঘুরি (২০০৪, সাগরিকা)
সোনার মেয়ে (২০০৫, প্রাইম মিউজিক)
রোদ্দুর (২০০৬, সা রে গা মা)
আমি নই (২০০৮, শ্রীকান্ত আচার্য প্রোডাকশন)
ঘুম নেই রাত (২০০৮, সারেগামা, কবিতা কৃষ্ণমূর্তির সাথে, রূপঙ্কর)
মুসাফিরানা (২০১১, ওরিয়ন এন্টারটেইনমেন্ট)
মুসাফিরানা ২ (২০১৬, শ্রীকান্ত আচার্য প্রোডাকশন)

ইত্যাদি।

বাংলাদেশ সফর নিয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে শ্রীকান্ত আচার্য বলেন, আমি যদি বাংলাদেশে আসার কথা বলি, তাহলে ২০০০ সাল থেকে আমি এই দেশে আসছি। ২৬ বছর ধরে আমি ঢাকাতে তো অনেকবার এসেছি, পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য জায়গাতেও ঘুরেছি। তবে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আমি এই প্রথমবার এলাম, খুবই ভালো লেগেছে।

তিনি আরও বলেন, এবার আমার কাছে এই ঘুরে দেখাটা একটু বিশেষ কারণ। একদিকে পহেলা বৈশাখের আনন্দ, অন্যদিকে আমি সপরিবারে এখানটায় ঘুরতে এসেছি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *