মোহাম্মদপুর: মোহাম্মদপুরের পরিচয় অপরাধের হটস্পট। যখন দেখা যায়, অপরাধী খুনের মামলা মাথায় নিয়েও এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে বেড়াচ্ছে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়াই স্বাভাবিক।

​সমাজের সাধারণ মানুষের একটি প্রচলিত ধারণা হলো—পুলিশ চাইলে অপরাধী পাতাল থেকে হলেও খুঁজে বের করতে পারে।

সাধারণ কোনো ব্যক্তি অপরাধ করলে পালানোর পথ পায় না, অথচ ক্ষমতার দাপট বা প্রভাব থাকলে অনেক সময় অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।

একটি এলাকার সাধারণ মানুষও জানে কোথায় মাদক বিক্রি হয় বা কারা সন্ত্রাস চালায়। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে সেই তথ্য প্রশাসনের কাছে পৌঁছায় না!? অথবা পৌঁছালেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

​সরকার জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এক বিশাল পুলিশ বাহিনী পরিচালনা করে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য। কিন্তু প্রশাসন কী করে?

এখন সাধারণ মানুষের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকে গেছে। নিরীহ মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে, আর অপরাধীরা নতুন নতুন মামলার মালিক হয়েও বুক ফুলিয়ে জমিনে চষে বেড়াচ্ছে।

অপরাধী যখন এলাকায় দাপট দেখায়, তখন তা কেবল পুলিশের ব্যর্থতা নয়, বরং বিচারহীনতার সংস্কৃতির এক করুণ প্রতিফলন। দেশের আইন ব্যবস্থার যে পতন ঘটেছে, তার প্রমাণ তো প্রতি পদে পদে পাওয়া যাচ্ছে।

৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই এলাকায় হত্যা, হামলা, ছিনতাইসহ নানা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। মানুষ ভয়ে কাঁপে।

সর্বশেষ গত কয়েক সপ্তাহে প্রকাশ্যে কুপিয়ে একাধিক হত্যা, কিশোর গ্যাংয়ের দ্বন্দ্ব, মাদক কারবারি, ধারালো অস্ত্রের মুখে একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে এই এলাকা।

স্থানীয়রা জানান, গাংচিল, কব্জি কাটা আনোয়ার, পাটালি গ্রুপ, বাদল, লও ঠেলা, আরমান-শাহরুখ, লাড়া দে, লাল বাহিনী, বিরিয়ানি সুমন গ্রুপ, আকাশ গ্রুপ, দে ধাক্কা, বেলচা মনির, ডায়মন্ড, গ্রুপ টুয়েন্টি ফাইভ, মুরগি গ্রুপ, টুন্ডা বাবু, কালা রাসেল, ল্যাংড়া হাসানসহ পুরো মোহাম্মদপুর এলাকায় অন্তত ২০ থেকে ২৫টা কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে।

এরা নিজেরা স্থানীয়ভাবে একাধিক গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে।

জানা গেছে, বিশেষ করে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড়, বুদ্ধিজীবী কবরস্থান, চাঁদ উদ্যান, লাউতলা, নবীনগর হাউজিং, বসিলা চল্লিশ ফিট, কাঁটাসুর, তুরাগ হাউজিং, আক্কাস নগর, ঢাকা উদ্যান নদীর পাড়, চন্দ্রিমা হাউজিং, আদাবর, শেখেরটেক, মনসুরাবাদ, রায়ের বাজারসহ আশপাশের এলাকায় এসব গ্রুপের সদস্যরা একদম দিনের আলোয় ধারালো অস্ত্রের মহড়া দেয়। কেউ কিচ্ছু বলে না।

যা ইচ্ছা তাই করে। মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। দিনের আলোতে ধারালো অস্ত্রের মুখে মানুষকে জিম্মি করে সব কেড়ে নেয় তারা।

মোহাম্মদপুর এলাকাকে দীর্ঘদিনের অপরাধপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে উল্লেখ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ১৯৮৬ সালে তিনি নিজেও মোহাম্মদপুর এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছিলেন।

তিনি বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কিশোর গ্যাং, ছিনতাই ও মাদকবিরোধী টহল অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, প্রথমত কিশোর অপরাধের লাগাম টানতে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *