ঢাকা: চারুশিল্পী মাতিয়া বানু শুকু ক্যানসারে আক্রান্ত। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নাই!
মাতিয়া বানু শুকু ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের জ্যেষ্ঠ কন্যা। তাঁর স্বামী গুণী নির্মাতা নুরুল আলম আতিক।
ভাষা সৈনিক মতিনের মেয়ে মাতিয়া বানু শুকু, এই পরিচয় ছাপিয়ে শিল্পী শুকু নিজেই এক অনন্য উচ্চতার মানুষ। নিজেই নিজের পরিচয় তৈরি করেছেন।
আপাদমস্তক শিল্পের সাথে কাটানো, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্ত অভিনেত্রী, নির্মাতা শুকু’র চিকিৎসার ভার ‘কোন’ ‘যদি’ ছাড়া এমনিতেই সরকারের নেওয়ার কথা। নেওয়া উচিৎ।
নির্মাতা নুরুল আলম আতিকও সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। সরকার যদি কোন প্রকার উদ্যোগ না নেয় তো সেটা বিএনপি সরকারের ব্যর্থতা হবে।
বরং সরকার শিল্পী শুকুর পাশে দাঁড়ালে দেশের মানুষের আস্থা, ভালোবাসা অর্জন করতে পারবে।
দেশের গুণী নাট্যকার ও পরিচালক আজ বড় কঠিন সময় পার করছেন।
তাঁর স্বামী নির্মাতা নূরুল আলম আতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী মাতিয়া বানু শুকুর শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। তারা দীর্ঘদিন ধরে তার চিকিৎসা করছেন।’
আতিক বলেন, ‘আমরা নাটকের মানুষ। আমরা যারা নাটক ও চলচ্চিত্রে কাজ করি, তাদের তো আলাদা কোনো সুযোগ–সুবিধা বা কোনো পেনশন নেই। কাজটাই আমাদের ভরসা। হঠাৎ আমাদের মধ্যে কেউ ক্যানসারে আক্রান্ত হলে পরিবারের জন্য সেটা অনেক বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আমরা নানাভাবে চেষ্টা করছি তার পাশে থাকতে। কিন্তু ব্যয়বহুল চিকিৎসার ব্যয় আমাদের সাধ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।’
জানা যায়, প্রায় আট মাস আগে মাতিয়া বানু শুকুর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর তাঁকে চেন্নাইয়ে নিয়ে চিকিৎসা করানো হয়েছে। ২৩ এপ্রিল চেন্নাইয়ে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে ফের। তবে খরচ নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আতিক বলেন, ‘শুরু থেকেই আমাদের পরিবারের দুজনই আমরা নাটক ও সিনেমা পরিচালনা করে আসছি। এটাই আমাদের আয়ের উৎস। গত বছর ক্যানসার ধরা পরার পরে থেকে আমরা কেউই কাজে নিয়মিত নই। এদিকে চেন্নাইতে এর চিকিৎসা খরচ অনেক।
এ ছাড়া চিকিৎসা দীর্ঘদিন ধরে করে যেতে হবে। এই অবস্থায় আমরা সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’
মাতিয়া বানু শুকুর বরাত দিয়ে আতিক সবশেষে বললেন, ‘মাতিয়া বানু শুকু বন্ধু, প্রিয়জন দর্শকদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।’
উল্লেখযোগ্য যে, দীর্ঘ দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাতিয়া বানু বাংলাদেশের ছোট পর্দা এবং চলচ্চিত্রে সৃজনশীলতার সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।
তিনি ২০২১ সালের ‘লাল মোরগের ঝুঁটি’ সিনেমার জন্য প্রযোজক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।
