ঢাকা: এপ্রিলের এই কাঠফাটা গরমে ঢাকার মানুষ পেট্রল পাম্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন বারো থেকে তেরো ঘণ্টা ধরে। রোদে পুড়ছেন, অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কেউ কেউ সিরিয়াল নিয়ে হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়ছেন। খুনোখুনি পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে।
অবশ্য সরকারের থেকে আশ্বাস ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুর, আসাদগেট, গাবতলির মতো এলাকায় জ্বালানি তেলের জন্য মানুষকে রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকতে হচ্ছে।
এইভাবে যে মানুষগুলো লাইনে পড়ে আছেন, তাদের সংসার কীভাবে চলবে? তারা তো কাজের সময়টা ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনেই কাটিয়ে দিচ্ছেন।
যে রাইড শেয়ার চালক সারাদিন গাড়ি চালিয়ে সংসার চালান, তিনি তেলের লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সংসারে টাকা আসছে না, কিন্তু লাইন থেকে সরে যেতেও পারছেন না। কারণ সরে গেলে আবার নতুন করে অপেক্ষা শুরু। পেছনে চলে যেতে হবে।
ঢাকা থেকে গ্রাম পর্যন্ত একই অবস্থা।
অনেক পাম্প বন্ধ থাকে, তেলের দেখা নাই।
মন্ত্রী বলেন “সব ঠিক আছে”, জনগণ বলে “কই?” এইভাবেই চলছে এখন তেলের গল্পটা।
এদিকে, পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন ডিপো থেকে যতটুকু আসছে ততটুকুই দিচ্ছেন। এটা মিথ্যা না হলেও, এই কথাটা দিয়ে দায় এড়ানো যায় না। ডিপো থেকে কম আসছে কেন, সেই প্রশ্নটার উত্তর দিতে হবে সরকারকে।
সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা, মজুদ নিশ্চিত করা, বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখা, এগুলো তো সরকারের কাজ।
অনেকে মনে করেছিলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে ফিলিং স্টেশন থেকে তেল পেতে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চলা ভোগান্তির শেষ হবে।
কিন্তু দাম বাড়ানোর পরেও সেই অবস্থাই চলছে। এখনো জ্বালানি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
এদিকে, পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছেন ডিপো থেকে যতটুকু আসছে ততটুকুই দিচ্ছেন। এটা মিথ্যা না হলেও, এই কথাটা দিয়ে দায় এড়ানো যায় না। ডিপো থেকে কম আসছে কেন, সেই প্রশ্নটার উত্তর দিতে হবে সরকারকে।
সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা, মজুদ নিশ্চিত করা, বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখা, এগুলো তো সরকারের কাজ।
তেলের দাম বাড়ানোর জন্য যে সিন্ডিকেট ছিল, এখন তো দাম বাড়িয়েই দিয়েছেন। তবুও মানুষের হাহাকার কমছে না কেন? কার ব্যর্থতায় জনগণ এত কষ্ট পাচ্ছে?
একটা পাম্পে সব তেল না দিয়ে, আশেপাশের সব পাম্পে তেল ভাগ করে দেয়া প্রয়োজন। মানুষ তখন ভাগ হয়ে যেতো, লাইন এতটা লম্বা হতো না।
কিন্তু তা হয় না । একজন বলছেন, “আমাদের হিউজ জ্বালানি তেল মজুত আছে”। আবার আরেকজন বলছে, “জনগণের সুবিধার জন্যই দাম বাড়ানো হয়েছে”!
