চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবনের অবস্থা কাহিল। চট্টগ্রাম নগরীতে চলমান তীব্র লোডশেডিং মানুষের জীবনযাত্রাকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

দিনে ৮–১০ বার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে পড়ছেন। এমনিতেই প্রচণ্ড গরম, তার ওপর দিন-রাতের এই নাটক! অনিয়মিত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি জীবনকে অসহনীয় করে তুলেছে।

বিশেষ করে যেসব পরিবারের ঘরে ছোট্ট শিশু রয়েছে, তাদের দুর্ভোগ তো আরও বেশি। সারাদেশেই লোডশেডিং হচ্ছে ভয়াবহ মাত্রায়। তবে প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম এগিয়ে।

অতিরিক্ত গরমে অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যার ফলে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে শিশুরা।অসুস্থ ও বয়স্ক মানুষের কষ্টও বেড়ে যাচ্ছে বহুগুণ।

তবুও মহাশয়রা দাঁত কেলিয়ে বলেন “দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জ্বালানি মজুদ আছে”।

মশার উপদ্রব তো আছেই, বসে থাকা যাচ্ছে না। চট্টগ্রামে নাকি একজন মেয়র আছেন। উনি সিটি কর্পোরেশন থেকে সর্বশেষ কখন মশা ওষুধ স্প্রে করেছিলেন তা কারো মনেও পড়ে না ।

নগরীর এনায়েত বাজার এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চারবার বিদ্যুত গেছে। আর প্রতিবারে লোডশেডিংয়ের সময়কাল এক ঘণ্টার কম ছিল না। এক ঘন্টার বেশিই হবে বরং।

নগরীর ফিরিঙ্গীবাজার শিববাড়ি এলাকায় মঙ্গলবার সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ গেছে পাঁচবার।

পিডিবি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাহিদা অনুযায়ী জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ায় লোডশেডিং বেশি করতে হচ্ছে।

পিডিবি চট্টগ্রাম বিতরণ অঞ্চলে বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে ২৪টি। এরমধ্যে ছয়টি সরকারি, বাকি ১৮টি বেসরকারি মালিকানাধীন।

এর মধ্যে মহেশখালীর মাতারবাড়ি ও বাঁশখালীতে দুটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র, পাঁচটি গ্যাসভিত্তিক, একটি জলবিদ্যুৎ এবং দুটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। বাকি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো জ্বালানি তেল, বিশেষ করে ফার্নেস অয়েল দিয়ে চলে।

এসব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বেশি। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণ জটিলতা আর জ্বালানি তেল, গ্যাস সংকটের ফলে বেশিরভাগ বিদ্যুৎকেন্দ্র তাদের সক্ষমতার অর্ধেকও বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।

এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়েছে দেশ। মানুষ না এদিকে যেতে পারে না ওদিকে।

লোডশেডিং এর কারণে শুধু পরিবারগুলোই কি সমস্যায় পড়ছে? এটা কি ব্যক্তিগত সমস্যা? নাহ তা না। সারা দেশের অর্থনীতিতে এর প্রভাব পড়ছে।

কারখানাগুলোতে কাপড় তৈরি হচ্ছে খুব কম পরিমাণে। তাঁতিরা কাজ কর‍তে পারছেন না। গ্রাম পর্যায়ে লোডশেডিং এর অবস্থা তো ভয়াবহ।

আবার যেটুকু পাওয়া যাচ্ছে ৭ টার মধ্যে কারখানা বন্ধ করতে হচ্ছে।

স্বাভাবিকভাবেই কাজের ফ্লো কমে গিয়েছে। চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা যাচ্ছেনা। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে সারাদেশে ক্যাশ ফ্লো কমে যাবে। ইতিমধ্যে কমতে শুরু করেছে।এক কাপড়ের সেকশনেই লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *