রাঙ্গামাটি: বাংলাদেশে এখন মনে হচ্ছে সব বিপদ একসাথে এসেছে। জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকট, তার ফলে সেচের অভাব আর তাপপ্রবাহের কারণে জমি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।
হামে মারা যাচ্ছে শিশু, মশার উপদ্রব, কল কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে- অবস্থা দিনে দিনে খারাপের দিকে যাচ্ছে।
এবার পানির অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে কাপ্তাই পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৪ ইউনিট।
টানা অনাবৃষ্টি ও তীব্র তাপদাহে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে গিয়েছে। ফলে দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।
কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে (কপাবিকে) পানি স্বল্পতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে।
কেন্দ্রের মোট ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ৪টি ইউনিটই বন্ধ। মাত্র ১টি ইউনিট থেকে নামমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এতে জনগণের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব?
ওই একটি ইউনিট থেকে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
বুধবার (২২ এপ্রিল) কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমতে থাকে। আর পানির ওপর নির্ভরশীল এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধু ২ নম্বর ইউনিট থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
বর্তমানে রুল কার্ভ অনুযায়ী, কাপ্তাই লেকে ৮৩ দশমিক ৮০ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল) পানি থাকার কথা থাকলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানি ছিল ৭৭ দশমিক ৪৭ ফুট মিন সি লেভেল।
যতদিন পর্যন্ত বৃষ্টি হবে না, ততদিন পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হবে না।
