ঢাকা: ৫ আগস্টের পরের থেকে চলছে তো চলছেই চুরি ডাকাতি ছিনতাই লুটপাট ভাঙচুর জ্বালাও পোড়াও ধর্ষণ! সাথে মব তো আছেই। মরার উপর খাঁড়ার ঘা।
রাজধানী ঢাকায় এখন প্রতিদিন কোথাও না কোথাও চুরি হচ্ছে। ঢাকায় যেমন জনসংখ্যা বেশি তেমন অপরাধ বেশি।
একটি করে গাড়ি বা মোটরসাইকেল প্রায় প্রতিদিন চুরি যাচ্ছে ঢাকায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য বলছে, বছরে গড়ে অন্তত ৩৬৬টি যানবাহন চুরির মামলা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই ঘটনা আরো বেশি।
কারণ দেখা যায় অনেক ভুক্তভোগী থানায় যান না, মামলাও করেন না। চুরি হয় যদিও এইসব ঝামেলায় আর জড়ান না অনেকেই।
শুধু সাধারণ মানুষের গাড়িই নয়। থানার ভেতর থেকে খোদ পুলিশের মোটরসাইকেল চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি রাজধানীর ভাটারা থানার ভেতর থেকে পুলিশের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশধারী দুই ব্যক্তি মোটর সাইকেলটি নিয়ে যাচ্ছে।
মোটরসাইকেলের মালিক এএসআই মো. ফিরোজ জানান, মোটরসাইকেলে একটি জিপিএস ট্র্যাকার লাগানো ছিল। থানার বাইরের একটি গলিতে নিয়ে সেই জিপিএস ট্র্যাকার খুলে ফেলে চোরেরা।
খোদ পুলিশ যেখানে নিজেদের সেফ করতে পারে না, সেখানে সাধারণ মানুষ কোন ছাড়।
ঢাকায় দিন দিন বাড়ছে প্রাইভেটকার, মোটর সাইকেল, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চুরির ঘটনা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গাড়ি চুরি হওয়ার পর সেটি উদ্ধারে প্রক্রিয়া অনেক লম্বা এবং জটিল। অনেক ক্ষেত্রেই চুরি হওয়া গাড়ির হদিস আর পাওয়া যায় না।
চোরচক্র দ্রুত ঢাকার বাইরে নিয়ে গাড়ির পার্টস খুলে ফেলে। ফলে ঋণ নিয়ে বা সঞ্চয়ের টাকা দিয়ে কেনা গাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অনেকেই। কারো কারো জন্য একটা মোটরসাইকেল দিয়েই সংসার চলে।
আসলে এই দেশটায় মানুষের কোনো নিরাপত্তা নেই। কোনোদিকে দিয়েই নেই। মানুষের যে শান্তিটা ছিলো, সেটা নেই।
ঘুম থেকে উঠতে হয় একটা আতঙ্ক নিয়ে। না জানি কী ঘটে।
জিপিএস ট্র্যাকার, সিসিটিভি নজরদারি, নিরাপদ পার্কিং ব্যবস্থার অভাব সারা দেশজুড়ে। ফলে এই অব্যবস্থা চোরদের সুযোগ করে দিচ্ছে।
