আচ্ছা একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে টেকনাফ ও উখিয়ার লোকজন যদি শোনে যে তারা আর বাংলাদেশের মধ্যে নেই । তারা এখন স্বাধীন আরাকান রাষ্ট্রের নাগরিক- তাহলে কি খুব বেশি অবাক হওয়ার মত কিছু হবে?
কেউ কেউ হয়তো প্রশ্ন করবেন – হঠাৎ এ কথা কেন বলছি? টেকনাফ ও উখিয়াতো কক্সবাজার জেলার অধীনে দুটি উপজেলা এবং স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মধ্যেই তাদের অবস্থান এখন পর্যন্ত। সুতরাং আমি কিসের ভিত্তিতে এমন একটি রাষ্ট্রবিরোধী বাতচিৎ করছি? সেটাও একটা অকাট্য যুক্তি বটে।
কিন্তু এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা সত্যিই আমাদের মনে ভয় ধরেছে। কারণ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলায় স্থানীয় বাংলাদেশি নাগরিকদের চেয়ে রোহিঙ্গাদের সংখ্যা এখন ২ গুণেরও বেশি।
তবে যে হারে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটছে তা তিন গুণ হতে বেশি সময় লাগবে না । এমন আশঙ্কা স্থানীয় জনগণ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি ও সংস্থার।
গত প্রায় ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে এ অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশের কারণে বাংলাদেশের স্থায়ী অধিবাসীরাই এখন সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে।
কক্সবাজার পরিসখ্যান অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী উখিয়া ও টেকনাফের মোট জনসংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৭১ হাজার ৭৬৮ জন।
এখন থেকে চার বছর আগে মানে ২০২২ সালের প্রেক্ষাপটে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার জনসংখ্যা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী মিলিয়ে মোট জনসংখ্যার মোটামুটি যে চিত্র পাওয়া গেছে তা সত্যি প্রচণ্ড রকমের উদ্বেগজনক।
উখিয়া উপজেলায় ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী উখিয়া উপজেলার জনসংখ্যা ২,৬৩,১৪৩ জন। ২০২৬ সাল নাগাদ স্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের কারণে এই সংখ্যা আরও কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। টেকনাফ উপজেলায় ২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মোট জনসংখ্যা ৩,৩৩,৮৪০ জন।

কিন্তু উখিয়া ও টেকনাফ এলাকায় স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছে।
স্থানীয় জনগণ (উখিয়া ও টেকনাফ মিলে) এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী মিলিয়ে এই অঞ্চলে মোট জনসংখ্যা ১৬ লক্ষাধিক ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কিন্তু সরকারি-বেসরকারি হিসাবে বর্তমানে এই দুটি উপজেলায় কমপক্ষে ১০ লাখ রোহিঙ্গার বসতি। প্রতিদিনই তা বাড়ছে, কারণ সীমান্ত এখন অবারিত। যা দিয়ে রোহিঙ্গারা প্রবেশ করছে কোনো বাধা ছাড়াই।
রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের সরকার ও দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে ‘মানবিকতা’র অনন্য উদাহরণ ও প্রশংসিত হয়ে থাকলেও উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলের নাগরিকরা ত্যক্ত-বিরক্ত ও আতঙ্কে রয়েছেন।
কারণ ওই এলাকার নাগরিকদের ভাষায় এই ‘রোহিঙ্গা মানবিকতা’ তাদের অন্ন-বস্ত্র-শিক্ষা-চিকিৎসা-বাসস্থানসহ নিরাপত্তার জন্য প্রচণ্ড রকমের সংকট তৈরি করছে।
আশির দশক থেকেই রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটতে থাকে এসব অঞ্চলে। আর তা ছড়িয়ে পড়েছে বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ কমবেশি সারাদেশেই।
গত ২০১৭ সালের পর থেকে উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বানের পানির মতো প্রবেশ করায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় যেমন ভুগছে ।
তেমনি ক্ষোভও দানা বাঁধছে রোহিঙ্গাদের নানা ধরনের অপকর্মের বিরুদ্ধে। নির্বিচারে পাহাড়ের পর পাহাড়, বন বিভাগের বনভূমি উজাড় আর বিরান করছে রোহিঙ্গারা তাদের আবাসভূমি হিসেবে।
এমনিতেই উখিয়া এলাকার জনসাধারণ আগে থেকেই রোহিঙ্গাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে নানা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছে।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৮ সালে বড় দাগে প্রায় দুই লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। এরপর ১৯৯১-৯২ সালে মিয়ানমারের আধাসামরিক নাসাকা বাহিনীর আক্রমণের মুখে আরো প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে এ দেশে।
২০১৬ সালেও প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করে। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ইসলামি জঙ্গিবাদী সংগঠন আরসার একযোগে সেনা ও পুলিশ পোস্টে হামলার পর মিয়ানমার সেনা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর অপারেশন চালাতে শুরু করে।
আর তারই প্রতিক্রিয়ায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের আনুকূল্যে সে সময় কমপক্ষে ৫ লাখ রোহিঙ্গা মোটামুটিভাবে গেড়ে বসেছে সীমান্তবর্তী উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চলসহ কক্সবাজারের বিভিন্ন অংশে।
তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উখিয়া ও টেকনাফের অধিবাসীরা। এরই মধ্যে প্রায় ৩০০০ একর পাহাড়ি ও বন বিভাগের জমি বেদখল হয়ে গেছে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়স্থল করে দেয়ার ফলে।

বাড়তি জনগোষ্ঠীর চাপ পড়ছে স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুলোতে। এমনকি ঘূর্ণিঝড়ের সময় স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও জায়গা হয় না এলাকাবাসীর। উদ্বাস্তু রোহিঙ্গারা নানা অপরাধে জড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন তারা।
রোহিঙ্গাদের এই নানাবিধ অপকর্মে স্থানীয় জনগণ সে সময় থেকেই রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপে ওঠে। উখিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহমুদুল হক চৌধুরী ক্ষোভের সাথে বলেন, মিয়ানমারে সহিংসতা এখন বাংলাদেশের অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের কারণে টেকনাফ-উখিয়ার অবস্থা এখন ভয়াবহ। দ্বিগুণ রোহিঙ্গার কারণে স্থানীয়দের মানবেতর জীবনযাপন করতে হবে।
বনজ সম্পদ, ক্ষেত-খামার ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয়দের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট সব জায়গার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্গন্ধে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে স্থানীয়দের তাদের বাপ-দাদার ভিটে ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে হবে।
বিভিন্ন সময়ে বানের পানির মতো ঢুকে পড়া এসব রোহিঙ্গার চাপ সামাল দিতে উখিয়ার বালুখালীর পাহাড়-টিলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক আশ্রয়ের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন।
তবে স্থানীয়দের দাবি অবিলম্বে এই এলাকার বিপর্যয় ঠেকাতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হোক বা অন্য কোনো দেশে তাদের পুনর্বাসন করা হোক। উখিয়ার কুতুপালং ইউপি সদস্য বকতেয়ার আহমেদ বলেন, স্থানীয়দের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য রোহিঙ্গারা হুমকিস্বরূপ।
কারণ আশ্রয় নেয়ার পর তারা বালুখালী ও আশপাশের পাহাড়ে অবস্থান করছে।
অস্থায়ী বাসস্থান নির্মাণের জন্য তারা সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ফেলছে, কেটে ফেলছে পাহাড়।
মানবিক কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না। এ ধারা অব্যাহত থাকলে স্থানীয়দের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অবনতি ঘটবে।
উখিয়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সামাজিক সংগঠক জানিয়েছেন, উখিয়ার কুতুপালং থেকে মধুরছড়া দিয়ে মনখালী এলাকা পর্যন্ত প্রায় ১০ মাইলেরও বেশি এলাকায় একটু দেখলেই বুঝতে পারবেন কী পরিমাণ পাহাড় আর বনাঞ্চল ধ্বংস করা হয়েছে।
অথচ আমাদের স্থানীয় বাংলাদেশিরা যদি কোনো কারণে বন বিভাগের কোনো গাছ কাটে তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা-হয়রানির সীমা থাকে না, কিন্তু রোহিঙ্গাদের বেলায় সাত খুন মাফ।
উখিয়ার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সচেতন সামাজিক সংগঠক মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের জায়গা দেয়াকে মেনে নিলেও রোহিঙ্গাদের কর্মকাণ্ডে বীতশ্রদ্ধ হয়ে বলছেন, পুরনো রোহিঙ্গাদেরই সামাল দেয়া যায়নি।
তার ওপর আরো কয়েক লাখ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ও বসতি স্থানীয় বাসিন্দাদের জনজীবনে যে কী পরিমাণ দুর্ভোগ ডেকে এনেছে তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন। তারা বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে টেকনাফ-উখিয়ার প্রভাবশালীদের সঙ্গে মিলে এখন বাংলাদেশিদের মতো চলাফেরা করে।
এমনকি বাংলাদেশিদের নিয়ন্ত্রণও করে। তাদের অনেকেই এখানকার নাগরিকত্ব পেয়ে গেছে, এমনকি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও বনে গেছে। ইয়াবা থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নেই যা তাদের দ্বারা সংঘটিত হয় না।
নতুন-পুরাতন রোহিঙ্গারা যদি এক হয়ে আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায় তাহলে আমাদের কিছুই করার থাকবে না।
কক্সবাজারের সাংবাদিক নেতা আবু তাহেরসহ আরো কয়েকজন সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সমস্যা আগে থেকেই ছিল। এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
উখিয়া-টেকনাফে প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে আশ্রয়ের নামে গেড়ে বসেছে। অথচ এ অঞ্চলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখের মতো।
রোহিঙ্গা পরিস্থিতির এই সংকট দ্রুত নিরসন না হলে নিজ দেশে স্থানীয়রা হয়ে যাবে পরবাসী। মানবতার নামে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হলেও স্থানীয়রা এখন কঠিন সময় পার করছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে শুধু উখিয়া-টেকনাফের নয়, সারাদেশের অবস্থাও ভয়াবহ হবে।
‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ শেখ হাসিনা নোবেলের আশায় ছিলেন।

২০১৭ সালে বিপুল পরিমান রোহিঙ্গাকে অবাধে বাংলাদেশে ঢুকতে দিয়ে, তাদেরকে অন্ন বস্ত্র চিকিৎসা ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা দিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগদান আর গলব্লাডারের অস্ত্রোপচার শেষে দীর্ঘ ২১ দিন পর গত ৭ অক্টোবর’ ২০১৭ তারিখে দেশে ফেরার পর এদেশের জনগণ তাকে বিশাল সম্মাননা জানিয়েছে।
সে সম্মাননায় তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন- যা কিছু অর্জন, সব দেশের মানুষের জন্য। বাংলাদেশের ভূমিকার কারণেই মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংকট বিশ্ববাসীর মনোযোগ পেয়েছে।
জাতীয় কর্তব্য হিসেবে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। শুধু কি তাই ? আবেগ আপ্লুত হয়ে তিনি তখন বলেছিলেন- ‘প্রয়োজন আমরা এক বেলা খাব, আরেক বেলা তাদের ভাগ করে দেব ‘।
আসলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতটাই উদ্বেলিত হয়েছিলেন যে তিনি মনে করেছিলেন রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলে নোবেল কমিটি তাঁকে নোবেল পুরষ্কার দিয়েও দিতে পারে।

এমনকি তার দলের লোকজনও তখন তাদের কথাবার্তায় এমন ভাব প্রকাশ করতেন যে, শেখ হাসিনা যে কোন সময় অসামান্য মানবিক কাজের পুরষ্কার হিসেবে নোবেল পুরষ্কারটি পেয়ে যাবেন।
কিন্তু শেখ হাসিনা কিংবা তাঁর দলের নেতাকর্মীদেরকে চরম হতাশ হতে হয়।
এরমধ্যে গত কয়েকবছর ধরে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে নানা একাডেমিক ও মাঠপর্যায়ে কাজ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, সাবেক কূটনীতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সাথে কথা হয় এর মধ্যে।
তারা আশংকা প্রকাশ করে বললেন- রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর আর কোন চান্স নেই। ফলে অনাদিকাল অবধি এই রোহিঙ্গারা এদেশে শুধু থাকবেই না, বরং তারা ভেতরে ভেতরে টেকনাফ ও উখিয়াকে তারা তাদের অত্যন্ত সেইফ জোন মনে করছেন।
মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশকে ইতিমধ্যেই সশস্ত্র রোহিঙ্গারা অনেকটা বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে মূল মিয়ানমার থেকে। তাই যেকোন সময় মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত টেকনাফ ও উখিয়া বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারে।
# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
