চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জব্বারের বলীখেলায় টানা তিন তিনবার বিজয়ী হয়েছেন কুমিল্লার বাঘা শরীফ। তার মানে হ্যাটট্রিক বিজয় তার।

বলি খেলার ১১৭ তম আসরে শনিবার তিনি একই জেলার মো. রাশেদকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হন।

এবারের বলী খেলায় অংশ নিতে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ১০৮ জন কুস্তিগীর অংশগ্রহণ করেন।

খেলা শেষে জয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান।

এবারের আসরে গতবারের চ্যাম্পিয়ন বাঘা শরীফ, রানার আপ রাশেদসহ প্রথম চার জন সরাসরি কোয়ার্টার ফাইনালে অংশ নেন।

তাদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন প্রথম রাউন্ডের বাছাই পেরিয়ে আসা বাগেরহাটের মো. মামুন, কুমিল্লার দিপু, নারায়ণগঞ্জের নুরুল ইসলাম ও সাভারের মো. মিঠু।

কোয়ার্টার ফাইনালে গতবারের সেমিফাইনালিস্ট শাহজালাল খেলেছেন নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে, মিঠু লড়েন কামালের বিরুদ্ধে, বাঘা শরীফ খেলেন দিপুর বিরুদ্ধে এবং রাশেদ খেলেন মামুনের সঙ্গে।

বাঘা শরীফ সেমিফাইনালে সহজেই শাহজালালকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠেন, তার বিরুদ্ধে আবার ফাইনালে ওঠেন রাশেদ। তিনি সেমিফাইনাল খেলেন মিঠুর বিরুদ্ধে।

শাহজালালের সঙ্গে মিঠুর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী খেলা জমে উঠে। ১৭ মিনিটের বেশি সময় গড়ানো এ খেলায় মিঠু বলী খেলার ১১৪তম আসরের শাহজালালকে পরাজিত করে তৃতীয় স্থান লাভ করে।

এর আগে বিকেল সাড়ে ৩টায় বলী খেলা উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এ অঞ্চলের যুবকদের সংগঠিত ও শারীরিক ভাবে প্রস্তুত করতে চট্টগ্রাম শহরের বদর পাতির ব্যবসায়ী আব্দুল জব্বার সওদাগর ১৯০৯ সালের বাংলা ১২ বৈশাখ চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে আয়োজন করেন কুস্তির, যা বলী খেলা নামে পরিচিত।

বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে ১২ বৈশাখ ( ২৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী মাঠে জব্বারের বলী খেলা হয় প্রতিবছর। এবার বলী খেলার ১১৭তম আসর।

খেলাকে কেন্দ্র করে হওয়া মেলা রূপ নিয়েছে চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের উৎসবে। ১২ বৈশাখ বলী খেলা অনুষ্ঠিত হলেও লালদীঘি মাঠের আশপাশ ঘিরে প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে আগের দিন ও পরের দিন মিলিয়ে তিন দিন হয় মেলা।

তবে এসএসসি পরীক্ষার কারণে এবার মেলায় সময় একদিন কমানো হয়েছে।

এদিকে বলী খেলাকে কেন্দ্র করে জমে ওঠা বৈশাখী মেলাও বেলা পড়তেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।

সারাদিনের খরতাপ একটু থিতু হতেই মেলাপ্রাঙ্গণে ঢল নামল মানুষের। দিনব্যাপী মানুষের ঢল থাকলেও বিকেল গড়াতে না গড়াতেই সেখানে কাঁধে কাঁধ ঠেকানো ভিড়।

শিশুর হাত ধরা মা, তরুণ-তরুণীর দল, বয়স্কদের আনমনা হাঁটা — সবাই মিলে বৈশাখী মেলাকে দিয়েছেন এক নতুন মাত্রা। এদের অনেকে চান শেষ মুহূর্তের মেলা থেকে কম দামে বিভিন্ন পণ্য কিনতে।

সরেজমিনে দেখা গেল, রোদের প্রখরতা কমতেই মেলার চেহারা বদলে গেছে। দুপুরের তুলনায় বিকেলে দর্শণার্থীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে।

দোকানে দোকানে ক্রেতাদের ভিড়, বিক্রেতাদের ব্যস্ততা। কেউ মাটির পণ্য হাতে তুলে দেখছেন, কেউ তালপাতার পাখা কিনে হাওয়া করতে করতে মেলা ঘুরছেন।

ছোটরা আইসক্রিম হাতে ছুটোছুটি করছে, বড়রা দোকানে দোকানে উঁকি দিচ্ছেন পছন্দের জিনিসের খোঁজে। অনেক দর্শণার্থীই এসেছেন শেষ বেলায় কম দামে জিনিস কেনার আশায়। মেলার শেষ প্রহরে বিক্রেতারা সাধারণত দাম ছাড় দেন।

সারারাত ধরেই চলে বেচাকেনা। এমনকি রবিবার ভোরে মেলা শেষ হলেও কিছু বেচাকেনা চলতেই থাকে ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *