চাঁপাইনবাবগঞ্জ: দেশটায় দুর্নীতি করতে করতে লোভীরা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে যে এখন শিশুদের পর্যন্ত ছাড় দেয়া হয় না। টিকা না পেয়ে শিশুরা হামে মারা যাচ্ছে। স্কুলের খাবার খেয়ে বাচ্চাগুলো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে! ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পঙ্গু করে ফেলার ষড়যন্ত্র বিদ্যমান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে ৫০ শিক্ষার্থী।তীব্র পেটব্যাথা ও বমিতে শিশুদের আহাজারি কেবল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খেয়ে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই করুণ ঘটনাটি ঘটে।
শিক্ষার্থীরা বলছে, প্রতিদিনের মতোই বেলা ১১টার দিকে পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়। তবে খাবার খাওয়ার একটু পরেই শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
শরীরের মারাত্মক সমস্যা হতে থাকে। বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, চোখ জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এই ঘটনায় বিদ্যালয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অভিভাবকরা দাবি করেছেন, শুধু আজ নয় গত কয়েকদিন ধরেই এই খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হচ্ছে। তাদের মধ্যে সমস্যা হয় এই খাবার খেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির খাবার খাওয়ার পর শিশু শিক্ষার্থীদের অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে পড়ে। হঠাৎ করেই একের পর এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে, এতে পুরো বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
আমি নিজে স্কুলের মাঠে গিয়ে দেখেছি, চারদিকে শুধু বাচ্চাদের আহাজারি কেউ বারবার বমি করছে, কেউ তীব্র পেটব্যথায় মাটিতে গড়াগড়ি করছে, আবার কেউ মাথা ঘোরা ঠিকমতো দাঁড়াতেও পারছে না।
শিক্ষক ও অভিভাবকরা ছুটে এসে তাদের সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
এদিকে ঘটনার পর সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের জেলা ফিল্ড অফিসার লিটন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চাতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহা. মেফতাহুদ্দৌলা বলেছেন, খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গাক’র দেওয়া খাদ্য গ্রহণের পর থেকেই সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হতে শুরু করে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের সবারই পেটে ব্যথা ও বমির মতো উপসর্গ দেখা দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করা হলে তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুসাব্বির হোসেন খান, ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে।
