টুঙ্গিপাড়া: একজন মেধাবী সন্তান হারালো এই দেশ-‘বুলেট বৈরাগী’! একজন বলাটা ভুল! এরকম হাজার সনাতনী বৈরাগী আছে যাদের আজকে পর্যন্ত হারিয়েছে এই বাংলাদেশ।
কুমিল্লা কাস্টমসের বিবির বাজার স্থলবন্দরের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় আইরিশ হোটেলের পাশের রাস্তা থেকে উদ্ধার হয়।
অনেকে বলছেন ( ‘হিন্দু হত্যা ‘ বিষয়টিকে ঢাকার জন্য) যে ছিনতাই, মাদক বন্ধ না হলে এইসব ঘটনা বন্ধ হবে না। বিষয়টা ঢাকলেই বিষয়টা ঢাকে না। হিন্দুরা কোনোদিন এই দেশে শান্তিতে বসবাস করতে পারেনি। আর এই ঘটনা শুধু ছিনতাইয়ের কারণে ঘটেনি। সাম্প্রদায়িক হিংসা এগুলো। এই কথা রাষ্ট্র হয়তো স্বীকার করবে না।
একটা সুন্দর পরিবার ভেঙে গেল মুহূর্তে। এর দায় এই রাষ্ট্র নেবে?
কুমিল্লায় খুন হওয়া সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) বুলেট বৈরাগী হত্যার বিচারের দাবিতে গোপালগঞ্জে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের ডুমুরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি হয়।
বিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকদের উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে স্থানীয় শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
প্রসঙ্গত, বুলেট বৈরাগী টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামের সন্তান এবং ডুমুরিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত মূল আসামিদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করার দাবি জানান তাঁরা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত আসামিদের আইনের আওতায় আনা না হয়, তবে আগামীতে আরো কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।
শনিবার সকালে হাইওয়ে পুলিশ কাস্টম কর্মকর্তার মরদহ উদ্ধার করে।
নিহতের মা নীলিমা বৈরাগী জানান, বুলেট তাঁর একমাত্র ছেলে। ওই রাতে সর্বশেষ ২টা ২৫ মিনিটের দিকে ছেলে ফোন করে জানায়, কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রিজ চৌরাস্তার মোড়ে পৌঁছেছে।
পরে রাত আড়াইটার পর তার মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা কয়েকবার কথা বলেন। এরপর থেকে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়না। শনিবার সকালে তাঁর বাবা সুশীল বৈরাগী কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পরে পুলিশ মহাসড়কের আইরিশ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশের ফুটপাত থেকে বুলেট বৈরাগীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
