ঢাকা: বাংলাদেশে বজ্রপাত মানেই মৃত্যু! মানুষ মাঠেঘাটে কাজ করে, বাইরে থাকে- বর্ষাকাল এলেই একের পর এক বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটতেই থাকে। রবিবার বজ্রপাতে প্রায় ১৪ জন মারা গিয়েছে।
বাংলাদেশে পথ দুর্ঘটনার মতোই বজ্রপাত আরেক সমস্যা! বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয় বাংলাদেশে। বিশ্বে বজ্রপাতে যত মানুষ মারা যায়, তার প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই দেশে মারা যায়।
অন্যান্য কিছু দেশেও বজ্রপাতের হার বেশি।গবেষকদের মতে– মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেক্সাস ও ফ্লোরিডায়ও অনেক বেশি বজ্রপাত হয়। কিন্তু সেখানে তাদের ব্যবস্থাপনার কারণে ক্ষয়-ক্ষতি অনেক কম।
বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির জন্য নিয়মিত প্রচারণা চালানো হয় সে দেশগুলোতে। মানুষকে বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়স্থলে থাকার জন্য শিক্ষিত করা হয়।
কিন্তু বাংলাদেশে কিছু নেই। বজ্রপাত প্রকৃতি রোধ করতে পারে। বড় বড় গাছ এই বজ্রপাত ঠেকাতো আগে। কিন্তু এখন তো গাছ নেই। বজ্রপাতের যে প্রাকৃতিক নিরোধক, তা নষ্ট করে ফেলেছি আমরা।
মাঠের পাশে বাবলা গাছ, তাল গাছ কেটে ফেলেছি। রেইনট্রি গাছ নাই। ফলে সরাসরি মাঠে যখন বজ্রপাত হয়, তখন সেখানে মানুষ আর গবাদি পশু ছাড়া উঁচু কিছু পায় না। সচেতনতাও নেই দেশে।
বজ্রপাতে দেশের সাত জেলায় রবিবার অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গাইবান্ধায় মারা যায় শিশুসহ পাঁচজন।
এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে দুজন করে এবং পঞ্চগড়, বগুড়া ও নাটোরে একজন মারা গেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজয় বাংলা এলাকায় বজ্রপাতে দুই জন নারী শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন, মোছা. সুফিয়া আক্তার (২২), ও মোছা. ফারাহ আক্তার (২২)। আহত দুইজন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি শিক্ষার্থী।
গাইবান্ধায় মারা যাওয়া পাঁচজন হলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে ফুয়াদ চৌধুরী (১০), একই গ্রামের ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি চৌধুরী (১৫) ও নবীর হোসেনের ছেলে মিজান মিয়া (২০), ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের দেলুয়াবাড়ি গ্রামের শুক্কুর আলীর ছেলে মানিক মিয়া (২৫) ও সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের নম্বার আলী (৬৫)।
ঠাকুরগাঁওয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন পীরগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী লাবণী আক্তার (৩৫) ও কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭)।
এলাকাবাসী জানায়, দুপুরে গরুর ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন লাবণী। তখন আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
জামালপুরে মর্জিনা বেগম (২২) ও সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার হাবিব মণ্ডলের ছেলে হাসমত আলী (৪৫) মারা গিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির উঠানে থাকা রান্নাঘরে কাজ করছিলেন মর্জিনা বেগম। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এইভাবে মোট ১৪ জন মারা গিয়েছেন বজ্রপাতে।
