ঢাকা: আলোকচিত্রী রঘু রাই নেই! তাঁর মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছে ভারত এবং বাংলাদেশ।

ভারতের অন্যতম খ্যাতিমান আলোকচিত্রী রঘু রাই রবিবার নয়াদিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা গেছেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

মুক্তিযুদ্ধকালে রঘু রাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রত্যক্ষ যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ের দৃশ্য ধারণ করেছিলেন।

বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিদেশি আলোকচিত্রীদের মধ্যে রঘু রাই ছিলেন প্রথম সারির।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্যও তিনি উপস্থিত থেকে ধারণ করেছিলেন। তাঁর তোলা ছবি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের অমূল্য দলিল হয়ে আছে।

ভারতের দ্য স্টেটমেন্ট পত্রিকার প্রধান আলোকচিত্র সাংবাদিক হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের আশ্রয়শিবির ঘুরে ঘুরে উদ্বাস্তু বাংলাদেশিদের অবর্ণনীয় কষ্টের জীবনযাত্রা তুলে ধরেন তাঁর ক্যামেরায়।

কিংবদন্তি আলোকচিত্রী রঘু রাইয়ের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন।

ফেসবুকে রঘু রাইয়ের সাথে দুটো ছবি দিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন তসলিমা নাসরিন।

লিখেছেন: “রঘু রাই। মানুষটি ছিলেন, মানুষটি নেই। তাঁর তোলা ছবিগুলো আছে। থাকবে।

আমরা আছি। আমরা থাকবো না। আমাদের কবিতাগুলো হয়তো থাকবে , হয়তো হাওয়ায় উড়ে যাবে”।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান ও শরণার্থী শিবিরে ঘুরে তোলা রঘু রাই এর ছবি থেকেই আন্তর্জাতিক বিশ্ব জানতে পারে বাংলাদেশের উপর চালানো গণহত্যা ও তৎকালীন চিত্র!

মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ছবি পরে বই আকারে প্রকাশ করা হয়েছিল “BANGLADESH RISE OF A NATION” শিরোনামে ২০২৪ সালে।)

চলে তো যেতেই হয়, তবু হায় চলে যেতে হয়। তবু কিছু কিছু মৃত্যু নাড়িয়ে দিয়ে যায়। তেমন একজন রঘু রাই।

অপূর্ব একজন মানুষ বিদায় নিলেন। ছোটখাটো ব্যাপার তিনি কখনও গায়েই মাখেননি। কখনও কারও সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয়েও কাজ করেননি।

একটা পর্বত যেমন, নিজের সম্ভ্রান্ত অস্তিত্ব নিয়ে আকাশের গায়ে দাঁড়িয়ে থাকে– রঘু রাই ছিলেন ঠিক সেইরকম একজন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *