ঢাকা: ঝড়ের মৌসুম শুরু হতে না হতেই দেশজুড়ে বজ্রপাতের ভয়াবহতা সামনে এসেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা বাড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বিশেষ করে সতর্কতা চালু করা।

বজ্রপাত বেশি হওয়া হাওর অঞ্চলে বজ্রনিরোধক টাওয়ার নির্মাণ করতে হবে। গাছ রোপণ করতে হবে। সেখানে প্রচুর ছাউনিও নির্মাণ করতে হবে। এবং বজ্রপাত নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতাও বাড়ানো দরকার।

গত রবিবার এক দিনেই আট জেলায় কালবৈশাখীর সঙ্গে বজ্রপাতে প্রায় ১৪ জন নিহত হয়েছে। আবার অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

গত এক দশকের হিসাবে দেখা যায়, বছরে পৌনে ২০০ থেকে সর্বোচ্চ সোয়া ৪০০-এর মতো মানুষের মৃত্যু হয়েছে বজ্রপাতে। এই বিপুল প্রাণহানিকে এক ‘নীরব দুর্যোগ’ হিসেবে দেখছেন পরিবেশ ও দুর্যোগ বিশেষজ্ঞরা।

বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে তাঁরা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।

সোমবার আরো ৯ জন মারা গেলেন মর্মান্তিক এই বজ্রপাতে।

দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। নেত্রকোণায় তিনজন, সুনামগঞ্জে তিনজন, হবিগঞ্জে দুইজন, নোয়াখালীতে একজন মারা গেছেন। বজ্রপাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

কৃষকরাই বেশি মারা যান বজ্রপাতে। যেহেতু তাঁরা খোলা মাঠে থাকেন। তাছাড়া এই দেশে কোনো সচেতনতা নেই। এত যে মারা যাচ্ছে লোকজন তারপরেও কোনো ব্যবস্থা নেই।

নেত্রকোণার খালিয়াজুরীতে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক জেলে এবং দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে বিকেলের মধ্যে বজ্রপাতে নিহতের এসব ঘটনা ঘটে।

উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গোদারাঘাট (ফেরি) এলাকায় ধনু নদে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আব্দুল মোতালিবের (৫৫) মৃত্যু হয়।

কৃষ্ণপুরের ছায়ার হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে মো. শুভ মন্ডলের মৃত্যু হয়।

সুনামগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে তিন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

জানা গেছে, সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামের জমির হোসেন (৪২) এবং মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের আব্দুল্লাহপুর গ্রামের জমির উদ্দিন (৪৬) হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে নিহত হন।

বজ্রপাতে জামালগঞ্জ উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের আবু সালেহ (২২) নামের আরও এক কৃষকের মৃত্যু হয়। এভাবে মোট নয়জন মারা গিয়েছেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *