ইসলামী জঙ্গী আছে, জঙ্গী নেই এ কাসুন্দি অনেকদিন ধরে ঘাঁটছেন আমাদের দেশের সরকারগুলো। নানা সময়ের সরকার নানা ধরনের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করে আসছে অনেকদিন থেকেই। এটি আসলে একটি রাজনৈতিক কৌশল সরকারগুলোর।
স্পষ্টতই যেখানে নানা গোয়েন্দা সংস্থা বলছে যে দেশে জঙ্গী রয়েছে এবং তা খোদ সামরিক বাহিনীর মধ্যেই রয়েছে তখন স্বাভাবিকভাবেই তা চরম উদ্বেগজনক। শুধু উদ্বেগজনকই নয় এটি রীতিমতো আতঙ্কের।
পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্যও প্রচণ্ড হুমকি। উগ্র ইসলাম ধর্মীয় জঙ্গী গোষ্ঠীর কাছে কি জিম্মি পুরো দেশ ও জাতি? কার্যত তাই এখন বাংলাদেশ।

কারণ যে সামরিকবাহিনী দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার দায়িদ্বে নিয়োজিত তাদের মধ্যেই এই ইসলামী জঙ্গীরা তাদের ঘাঁটি গেঁড়েছে। তো আর কোথায় রইলো স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব? কোথায় রইলো সরকার? এমন পরিস্থিতি হলে সরকারের অস্তিত্বই নড়বড়ে হয়ে পড়ে। আসলে এটি অনেকদিনের জঙ্গী চাষাবাদ করা হয়েছে ও হচ্ছে।
শুধু কি তাই? অনেক যত্ন সহকারে জঙ্গীবাদের পরিচর্যা করা হয়েছে। তাতে ঠিকমতো সেঁচ, সার ও নিড়ানী দেয়া হয়েছে। ফলে এই ইসলামী জঙ্গীবাদের গাছটি শুধু আর গাছ নেই। এর বিস্তার এমনভাবে হয়েছে যে প্রচুর শাখা-প্রশাখা বের হয়ে এটি এখন মহীরুহে পরিণত হয়েছে।
আর শুধু ওপরেই তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করেনি, এটির শেকড় চলে গেছে অনেক দূরে। এখন সেই ইসলামী জঙ্গীবাদের বিশাল বৃক্ষকে মূলসহ উৎপাটন করবে কে?! এটি আসলে লাখ টাকার প্রশ্ন।
আসলেতো ইসলামী জঙ্গীবাদের চাষাবাদ বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীই করেছে। তারমানে ইসলামী জঙ্গীবাদের চাষাবাদ করে এখন আবার সেই চাষাকে খোঁজা হচ্ছে? তো সেই চাষাটি কে তা যখন জানা আছে তখন তার বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছেনা কেন? মূল কথা হলো বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে ?

পুলিশ সদর দফতরের জারি করা একটি সতর্কতামূলক চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর এই জঙ্গীবাদের বিষয়টি ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’তে পরিণত হয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠেছে—জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো এতদিন নীরব ছিল, এখন হঠাৎ কেন তারা আবার নড়েচড়ে বসছে?
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গিবাদ কখনও পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় না। তারা হারিয়ে যায় না, বরং কৌশলগতভাবে সুযোগ, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও নিরাপত্তার দুর্বলতার অপেক্ষায় থাকে। তাদের দীর্ঘ ‘নীরবতা’ মূলত পুনর্গঠন ও সাংগঠনিক শক্তি সঞ্চয়ের সময়।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের পুনরায় সক্রিয় করার চেষ্টা করে।
দক্ষিণ এশিয়ায় সক্রিয় বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে মতাদর্শিক যোগাযোগের অভিযোগ নতুন নয়।

অতীতে লস্কর-ই-তৈয়বা (এলআইটি) ও জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) মতো সংগঠনগুলো আন্তঃসীমান্ত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

সাম্প্রতিক আলোচনায় পাকিস্তানভিত্তিক তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) নামের সংগঠনের বিষয়টিও সামনে এসেছে।
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, সংগঠনটির সঙ্গে একটি নিরাপত্তা বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।খোদ সামরিক বাহিনীর মধ্যেই জঙ্গীবাদের চাষাবাদ!

চট্টগ্রামের বিমান ঘাঁটি বিএএফ জহুরুল হক ঘাঁটি থেকে নিখোঁজ হওয়া বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর (বিএএফ) এক ওয়ারেন্ট অফিসারের সন্ধান মিলেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) একটি ডেরায়।
এই ঘটনার পর সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরে উগ্রপন্থি নেটওয়ার্কের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে যেটি জানা গেছে তা হলো- পাকিস্তান সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে, তাদের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত টিটিপি’র পক্ষে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ওই সদস্য কাজ করছেন।
উল্লেখ্য, টিটিপি পাকিস্তানবিরোধী এবং আফগান তালেবানপন্থি একটি সশস্ত্র নেটওয়ার্ক হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশে টিটিপি’র উপস্থিতি নতুন নয়। ২০১৩ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল— ওই বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশে তিন টিটিপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এমনকি গত বছর পাকিস্তানের সামরিক অভিযানে অন্তত চার জন বাংলাদেশি টিটিপি যোদ্ধা হিসেবে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
এই ধারাবাহিকতায় এবার খোদ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যের নাম আসায় বিএএফ ঘাঁটি জহুরুল হক, এ কে খন্দকার এবং মতিউর রহমান ঘাঁটিতে কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা তল্লাশি শুরু হয়েছে।
কারাগার থেকে পলাতক ও সাম্প্রতিক উত্থান
জঙ্গিবাদের এই সাম্প্রতিক উত্থানের পেছনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ চিহ্নিত করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারকে উৎখাতের পর কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে অনেক দুর্ধর্ষ জঙ্গি সদস্য পালিয়ে যায়।
পুলিশ সদর দফতরের ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যানুযায়ী, কারাগার ভেঙে পালানো ২০২ জন বন্দির মধ্যে ১৩৩ জনই এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বাংলাদেশ পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একজন ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পলাতক বা জামিনে থাকা জঙ্গিদের বিষয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে বর্তমানে তাদের কাছে কোনও সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নেই।
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপি বারবার বলেছেন বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনও অস্তিত্ব নেই।
সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে এমন বক্তব্য আসার পর মাঠ পর্যায়ে আমাদের করার কিছু থাকে না।”
গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের উৎখাতের পর পাকিস্তানের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হওয়া এবং মানুষের ঘনঘন পাকিস্তান ভ্রমণের বিষয়টিও বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।
এছাড়া আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের একজন প্রভাবশালী নেতার বাংলাদেশ সফর এবং সে বিষয়ে সরকারের নীরবতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা এবং সরকারের পক্ষ থেকে ‘অস্বীকার করার সংস্কৃতি’ জঙ্গিবাদের এই নতুন উত্থানকে উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জঙ্গী হামলার আশঙ্কায় দেশের সব বিমানবন্দরে রেড এলার্ট!!
দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় এবার সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আটটি বিমানবন্দরে।
পোশাকধারী নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ সদর দফতরের সতর্কতার জারির চিঠি পেয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করে।
বিমানবন্দরে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্যরা জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে বলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্ক বার্তা দেয়া হয়।
দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করার কথা জানিয়ে বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশনা পেয়েছে বেবিচক। সে অনুযায়ী বিমানবন্দরগুলোতে সিকিউরিটি অ্যালার্ট জারি করেছি।

এর প্রেক্ষাপট কী, সেটি পুলিশ সদর দপ্তর ভালো বলতে পারবে। বিমানবন্দরগুলো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাভুক্ত (কেপিআই) হওয়ায় সব সময়ই কঠোর নিরাপত্তায় থাকে। তবে ওই চিঠি পাওয়ার পর নিরাপত্তা আরো বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে সতর্কতার চিঠি দেয়া হয়েছে বেবিচক কর্তৃপক্ষকে। চিঠি পাওয়ার পরপরই সংস্থাটি দেশের আটটি বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে।
বিমানবন্দরে কর্মরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব ইউনিটকে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর—ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং পাঁচটি অভ্যন্তরীণসহ মোট আটটি বিমানবন্দর চালু রয়েছে।
এসব বিমানবন্দরে বেবিচকের নিজস্ব অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ছাড়াও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমানবন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।পোশাকে ও সাদা পোশাকে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। সব ধরনের নিরাপত্তা হুমকি বিবেচনা করে পূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অ্যারাইভাল ও ডিপারচার সবক্ষেত্রে নিরাপত্তা তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। কোনো কিছু অস্বাভাবিক দেখা মাত্র রিপোর্ট করতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা জারি করে বাংলাদেশ পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (গোপনীয়) কামরুল আহসানের সই করা একটি দাপ্তরিক চিঠির মাধ্যমে গত ২৩ এপ্রিল এই সতর্কতা জারি করা হয়।
আভ্যন্তরীণ ওই চিঠির তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েকজন ব্যক্তি নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন। তারা বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে সুসমন্বিত হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া উগ্রবাদী সংগঠনের সদস্য ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর ওরফে আবু মোহাম্মদের সঙ্গে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত দুই সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সামরিক বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, উপাসনালয়, বিনোদনকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, এই জঙ্গি গোষ্ঠীটি হামলা চালানোর জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের চেষ্টা করছে—যা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে পুলিশ সদর দপ্তর সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা, নজরদারি বাড়ানো ও গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে।
## প্রশ্ন হলো পুলিশ সদর দপ্তর থেকে চিঠি পাওয়ার পর বেবিচক তাদের স্থাপনার নিরাপত্তা বাড়িয়েছে। আরে বেবিচকের চেয়ারম্যানতো সেই বিমান বাহিনীরই অফিসার যেই বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে এরই মধ্যে ইসলামী জঙ্গী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বিমান বাহিনীর নিজস্ব গোয়েন্দা সংস্থা আছে। ডিজিএফআই, এনএসআই রয়েছে। অবশ্য সেখানেওতো সব জঙ্গীবাদের চাষাবাদই চলেছে অনেকদিন ধরে। তো কি হবে এখন সেই বিমান বাহিনীর! কি হবে সশস্ত্র বাহিনীর? খোল-নলচে পাল্টাবেন? কে পাল্টাবে তা? কার এত বড় হিম্মত এই দেশে?
আরো কিছু বিষয় লিখবো এই জঙ্গীবাদ নিয়ে। আপাতত এতটুকুই আজকের মতো। আজকের লেখা শেষ করার আগে দুটে কথা না বললেই নয়।
তাহলো-গত ২১ মার্চ লিখেছিলাম পাকিপ্রেম না ছাড়লে বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ থাকবেনা। জিয়া-এরশাদ-খালেদা-ইউনুসের পথেই কি চলছেন তারেকের নেতৃত্বাধীন সরকার?
ড. ইউনুসের আমলে পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন জাহাজে করে অস্ত্র-গোলবারুদ আমদানী করে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, হিযবুত তাহরীর, কওমী মাদ্রাসার জঙ্গীদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন বিদেশী সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়েছিল।

আর ইউনুস সরকারের সে সময়কার ক্রীড়া ও যুব মন্ত্রনালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বপালনরত আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াতো তার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কয়েক হাজার জঙ্গীকে সামরিক প্রশিক্ষণই দিয়েছে। এসব জঙ্গীরা নিশ্চয়ই দেশ থেকে বের হয়ে যায়নি।
অনেকেই বলছেন, সরকারিভাবে এসব জঙ্গী প্রশিক্ষনের যে সংখ্যা দেখানো হয়েছে তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি জঙ্গীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।
শুধু এভাবে নয়। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইসহ সিনিয়র সামরিক অফিসাররাও বাংলাদেশের ক্যান্টমেন্টসহ ভারতীয় সীমান্তের স্পর্শকাতর বাংলাদেশি এলাকার ঘন ঘন ঘুরে গেছেন।
তুরস্কের গোয়েন্দা ও সামরিক অফিসাররাও হরদম এসেছেন। তারাতো বাংলাদেশে সামরিক অস্ত্র কারখানা তৈরির জন্য একধরনের সিদ্ধান্তও নিয়েছিলেন। সে ব্যাপারে আর তেমন কিছু জানা যাচ্ছেনা।
তাদের এই আনাগোনা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। অবিশ্বাসের জন্ম দিয়েছে। অবিশ্বাসকে আরো বেশি ঘনীভূত করেছে। তখন থেকে বাংলাদেশ সত্যিকারভাবে আর সেই একাত্তরে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া বাংলাদেশ রইলোনা। একটি চরম ইসলামপন্থী রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ?!
# ইশরাত জাহান: লেখিকা, প্রাবন্ধিক ও নারী অধিকার সংগঠক।
