গোপালগঞ্জ: বাল্যবিবাহ এখন শিক্ষিত ও মধ্যবিত্ত পরিবারেও ছড়িয়ে পড়ছে। আগে দরিদ্র পরিবারের মেয়েদের বাবা মায়েরা বাল্যকালেই বিয়ে দিয়ে দিতেন। কিন্তু এখন সেসব নেই!
প্রায় অনেক স্বচ্ছল পরিবারেও দেখা যায়, বাল্যবিয়ে। এর সম্পূর্ণ দোষ মা বাবার নয়। রাষ্ট্রের। কারণ রাষ্ট্র নারীদের মূল্যায়ণ করতে পারেনি, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।
ফলে, যৌন হয়রানির আশঙ্কা, সামাজিক চাপ, ইত্যাদির কারণেও বিয়ে হয় কম বয়সে।
এছাড়াও শিক্ষাজীবনে ব্যর্থতার মতো নানা কারণে অভিভাবকরা কন্যাশিশুর বিয়েকে নিরাপত্তা ও সমাধান হিসেবে দেখছেন।
ফলে বিষয়টি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।
বর্তমানে কন্যাশিশুর নিরাপত্তার সঙ্গে বাল্যবিবাহকে এক করে দেখার প্রবণতা বাড়ছে। অথচ এই শিশুগুলো পরের বাড়ি গিয়েও নির্যাতনের মুখে পড়ে। কম বয়সে সন্তান হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফ সমর্থিত এক জরিপে দেখা যায়, ২০১৫ সালে দেশে বাল্যবিবাহের হার ছিল ৫২ শতাংশ, যা ২০১৬ সালে ৩৫ শতাংশে নেমে আসে।
তবে ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে হার আবার বেড়ে ৫৯.২ শতাংশে দাঁড়ায় এবং বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ অনুযায়ী ২০১৮ সালে তা ছিল ৫৯ শতাংশ।
বিবিএসের ‘স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস-২০২৩’ অনুযায়ী, ২০১৯ সালে হার ছিল ৪৬.৮ শতাংশ, ২০২০ সালে ৩৪.৬ শতাংশ, ২০২১ সালে ৩৩.৮ শতাংশ, ২০২২ সালে ৪২.৯ শতাংশ এবং ২০২৩ সালে ৪৪.৪ শতাংশ।
এবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বাল্যবিয়ের আয়োজন ঠেকিয়ে দিয়েছে প্রশাসন। ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে বিয়ের চেষ্টা করার অভিযোগে বর জয় চৌধুরীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাত ৮টার দিকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতী ইউনিয়নের একটি বাড়িতে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদার বলেন, ওই গ্রামের ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাগেরহাট জেলার মোল্লারহাট উপজেলার বারাইগাতী গ্রামের জয় চৌধুরীর (২৩) সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। এমন খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
পাটগাতী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সুভাষ বিশ্বাস ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৭(১) ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বর জয় চৌধুরীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
এবং ১৮ বছরের আগে বিয়ে না দেওয়ার মুচলেকা নিয়ে কিশোরীকে তার অভিভাবকের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।
