পাবনা: বাংলাদেশের ইতিহাসে আজ এক অনন্য দিন। বহু প্রতীক্ষা, অগণিত স্বপ্ন আর এক দশকের নিরলস পরিশ্রমের ফসল হয়ে অবশেষে যাত্রা শুরু করল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং।

রাশিয়ার সহায়তায় নির্মিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লিতে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পারমাণবিক জ্বালানি বা ইউরেনিয়ামের ব্যবহার শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় বিশ্বের ৩৩তম দেশের মর্যাদায় আসীন হলো বাংলাদেশ।

দীর্ঘ প্রায় ছয় দশকের পরিকল্পনা, প্রতিবন্ধকতা এবং নানা বাধা পেরিয়ে বাস্তব রূপ পেয়েছে স্বপ্নের এই মেগাপ্রকল্প। এটি শুধু একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়; বরং বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক অনন্য প্রতীক।

শেখ হাসিনা নির্মাণ করেছেন দেশটাকে। অথচ শেখ হাসিনাই খারাপ! সেই হাসিনাকেই উৎখাত করা হলো।

আজ আবারো দেশবাসী স্মরণ করছে বঙ্গবন্ধু কন্যাকে।

আজ, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে তিনটায় রূপপুর প্রকল্প এলাকায় একেবারে অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। যেন করতে হয় করেছি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে ৪০ থেকে ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা শেষে আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হবে।

শুরুর দিকে প্রথম ইউনিট থেকে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হবে। পরবর্তী ৮ থেকে ১০ মাসের মধ্যে এই ইউনিট থেকে পূর্ণ ১২০০ মেগাওয়াট উৎপাদন সম্ভব হবে।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এই কাজ সম্পন্ন করেছি। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র আমাদের জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি। এটি কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদনই করবে না, বরং আমাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও শিল্পায়নকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।’

শেখ হাসিনার দৃঢ় সংকল্প না থাকলে হয়তো এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিত না। নানা বাধা, সমালোচনা উপেক্ষা করে তিনি যে পথ তৈরি করেছেন, আজ তারই সুফল ভোগ করছে সমগ্র জাতি, সারা দেশ।

আজকের এই দিনটি বাংলাদেশের জন্য গর্বের, আনন্দের এবং কৃতজ্ঞতার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *