ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে খেতে চায় রাজাকার জামাত। তারা জুলাই সন্ত্রাস আর মুক্তিযুদ্ধকে মিলিয়ে দিয়ে একটা জগাখিচুড়ি তৈরি করতে চায়।

কিন্তু তা কোনোদিন সম্ভব না। আর সেটা আবার স্মরণ করিয়ে দিলেন মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান।

বাঘের বাচ্চা একজনই যথেষ্ট! সাবাশ ফজলুর রহমান এমপি। কোনো মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সন্তান জামাত-শিবির করতে পারে না। লাউড এন্ড ক্লিয়ার।

মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান আজ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে শুধু কথা বলেননি, তিনি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই দেশের জন্ম কতটা আত্মত্যাগ, কষ্টের মধ্যে দিয়ে হয়েছিল, কারা রক্ত দিয়েছিল, আর কেন সেই ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা যাবে না।

তিনি বলেছেন, ইউনুসীয় জমানায় দেশের মুক্তিযুদ্ধ, শিল্প, সংস্কৃতিকে কবর দেওয়ার কথা।

তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের কেউ যদি জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়, সেটি শুধু ভুল নয়, “ডাবল অপরাধ”।

মুক্তিযুদ্ধ শুধু ইতিহাস না, এটি বাংলাদেশের নৈতিক মেরুদণ্ড। অথচ জামাত শিবিরের গোষ্ঠী বারবার বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। এমনকি মুক্তিযুদ্ধকে ধর্মের যুদ্ধও বলে এই এরাই।

আজ জাতীয় সংসদে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান সরাসরি বললেন—
“মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াত করলে সেটা ডাবল অপরাধ।”

বক্তব্যটি এসেছে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের পরিচয় নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে। তিনি নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্য দাবি করার পাশাপাশি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত—এই প্রেক্ষাপটেই এমন মন্তব্য করেন ফজলুর রহমান।

এই বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনাও তৈরি হয়, বিরোধী সদস্যদের প্রতিবাদ দেখা যায়। জামাতের গায়ে আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন আজ একজন ফজলুর।

আজ সংসদে কানায় কানায় উত্তেজনা ছিলো, ফজলুর রহমানের এক বক্তব্যে সংসদে জামায়াতের জ্বালা ধরিয়ে দিয়েছে।

ফজলুর রহমানের যে বক্তব্যের কারণে সংসদে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে “ফজলুর রহমান বলেন– মাননীয় স্পিকার বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি মুক্তিযুদ্ধ পরিবারের লোক এবং উনি শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াত ইসলামী করে, এটা তো ডাবল অপরাধ, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না”।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বাংলায় শুধু বেলি-চামেলি আর জুঁই ফুল ফোটে না, রক্ত জবাও ফোটে। এ দেশে শুধু কোকিল ডাকে না, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও থাকে।’

‘যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, মুক্তিযোদ্ধা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন এই দেশে জয়লাভ করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের পরে তারা বলবে আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই! বিরোধী দলে যারা বসে আছেন, অনেকেই আমাকে “ফজা পাগলা” বলে ডাকে, তারা নাকি সভ্য।’

‘বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক, শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ।’

‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন জামায়াত করতে পারে না। আর শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ,’ বলেন তিনি।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে কী হলো আপনারা জানেন। ইউনূস সরকার ছিল। আমি শিল্পকলার সামনে থাকি। সেখানে একটা গান হতে পারেনি, নাটক হতে পারেনি, লালন গীতি হতে পারেনি। সবকিছু কালো শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছিল।’

‘তারা বলেছিল কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সাতচল্লিশ হয়েছে, আর চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে। আর গন্ডগোল হয়েছে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এখনো কিন্তু ফজলুর রহমানদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত আছে। এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সত্য, ৩০ লাখ লোক জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য,’ বলেন তিনি।

আরো বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনে মব হয়েছে আমাকে হত্যা করার জন্য। সেদিনের জন্য আমি পুলিশকে ধন্যবাদ দেবো, মিলিটারিকে ধন্যবাদ দেবো। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ির সামনে তারা গিয়ে উপস্থিত হয়েছে আমাকে বাঁচানোর জন্য।’

রহমান বলেন, ‘ইলেকশনে তারা কী করেছে, আজকে যারা আমার ডানদিকে বসে আছে তারা কী করেছে? আমরা তো ভাই ছিলাম। তারা যা করেছে সেটা কল্পনা করার মতো না। যত চক্রান্ত করেছে, সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করল যে, তারা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি পেয়ে পাশ করবে। আমি হতভাগা ফজলুর রহমান বলেছিলাম জামায়াত জোট যদি মেজরিটি পায়, তাহলে আমি বিষ খাব। এই কথাটা আমি বলেছি। কথা সত্য তারা কোনোদিন যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারে নাই, কারণ তাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *