ঢাকা: শয়তানের যুগে যুগে আবির্ভাব হয়, আর সেই শয়তান হচ্ছে বাংলাদেশের অধিকাংশ মাদ্রাসার শিক্ষক। বলতে খারাপ লাগলেও এটাই বাস্তব। শিক্ষকের আদর্শ থাকবে, তিনি সৎ হবেন, সেখানে আবার ধর্মীয় শিক্ষক! অথচ দেশটায় তাই হয়ে চলেছে।
মাদ্রাসায় ধর্ষণের ঘটনা দিনে দিনে বাড়ছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও থেকে ধর্ষণের খবর আসে। অথচ সবাই চায় ধামাচাপা দিতে, তাতে দিনদিন সমস্যাটা বাড়ছে।
শুধুমাত্র ধর্মীয় শিক্ষা খারাপ মানুষকে ভাল করতে পারেনা, এইটা তার প্রমাণ। ধর্মীয় শিক্ষার সাথে লাগবে নৈতিক শিক্ষা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ। যেটা এই দেশে নেই।
বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণ ও মৃত্যুর নির্দিষ্ট কোনো একক সরকারি পরিসংখ্যান নেই।
তবে মাদ্রাসায় শিশু নির্যাতনের চিত্রটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK) এর তথ্যমতে, শুধুমাত্র ২০২০ সালেই দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় ২৫ জন ছাত্র তাদের শিক্ষক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছে।
তবে সংখ্যাটা আরো বেশি হতে পারে। এরকম প্রতি বছর সংখ্যাটা বাড়ছে।
দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক মর্যাদা বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির ভয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুরা বা তাদের পরিবার অভিযোগ জানাতে ভয় পায়। ফলে প্রকৃত সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।
আর মাদ্রাসায় ধর্ষণ হলে তাকে বলা হয় বলাৎকার।
এই বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা লিখেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
“ছেলে-শিশুকে ধর্ষণ করলে বলাৎকার করা বলি। আর মেয়ে-শিশুকে ধর্ষণ করলে ধর্ষণ করা বলি। কেন? ধর্ষণে আর বলাৎকারে পার্থক্য কী? মূলত কোনও পার্থক্য নেই। বলাৎকার শব্দটি প্রাচীন। বলপূর্বক কিছু করার নাম বলাৎকার । জোর করে যৌন সংসর্গ করা বা যৌন হেনস্থা করা বা যৌন নির্যাতন করার নাম ধর্ষণ। ধর্ষণ আধুনিক শব্দ।
বলাৎকার শব্দটি যখন ব্যবহৃত হতো, তখন বলাৎকারের অর্থ করতে গিয়ে যৌন নির্যাতন বা যৌন হেনস্থা শব্দগুলো লোকেরা উচ্চারণ করতো না, করতে হয়তো লজ্জা পেতো। কিন্তু ঠিকই মীন করতো যে যৌন হেনস্থা বা যৌন নির্যাতন ঘটেছে।
সোজা কথা, জোর করে কোনও ছেলে বা পুরুষের সঙ্গে বা জোর করে কোনও মেয়ে বা মহিলার সঙ্গে যৌন সংসর্গ করা বা যৌন হেনস্থা বা যৌন নির্যাতন করার নাম ধর্ষণ।
এখন থেকে ‘মাদ্রাসায় ছেলে-শিশুকে বলাৎকার করা হয়’ বলবেন না। বলবেন ‘মাদ্রাসার শিক্ষকেরা ছাত্রদের ধর্ষণ করে’।
বলাৎকার শব্দের মুশকিল হলো, এর আক্ষরিক অর্থ ”জোর করে কিছু করা”। কিছুটা কী, তা তো আমাদের বলতে হবে। শুধু যোনীপথে কিছু করাই ধর্ষণ নয়, পায়ুপথে কিছু করাও কিন্তু ধর্ষণ”।
