ঢাকা: মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভালো রং তামাশা চলছে। এবার হয়তো মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় রাজাকারের নাম চলে আসবে। এমনিতেই তো জামাত নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ পরিবারের সন্তান বলে দাবি করে! এখন সরকারের জন্য হয়তো সেটা লিখিতই হয়ে যাবে।

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বুধবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমীন দুলালের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। এ সময় অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

এদিন মন্ত্রীদের প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

প্রশ্নে রুহুল আমীন দুলাল বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী মহোদয় অনুগ্রহ করে বলবেন কী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যাদের গণহত্যা করা হয়েছিল, তাদের তালিকা করা হবে কিনা?

এই প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গেজেটভুক্ত শহিদ মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ৬ হাজার ৪৮০ জন।

মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে যারা শহীদ হয়েছেন তাদের গেজেটের ক্যাটাগরি অনুযায়ী শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সংখ্যা হলো, শহীদ বেসামরিক গেজেট ৩ হাজার ৬৯৮ জন, সশস্ত্র বাহিনী শহীদ গেজেট ১ হাজার ৫৪১ জন, শহীদ বিজিবি গেজেট ৮১৭ জন; শহীদ পুলিশ গেজেট ৪২৩ জন; শহীদ আনসার বাহিনী গেজেট ১ জন; মোট ৬ হাজার ৪৮০ জন। আর গেজেটভুক্ত শহীদ বুদ্ধিজীবীর সংখ্যা ৫৬০ জন।

তিনি বলেন, এছাড়া, আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বাধীনতার এত বছর পরেও তাদের একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন করা সম্ভব হয়নি। অথচ তাদের এই আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।

তিনি আরও বলেন, ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *