ঢাকা: এখন পাকিস্তানপন্থী রাজাকারের শাবকরা নিজেদেরকেই মুক্তিযোদ্ধা দাবি করা শুরু করেছে।

সাদা শকুন শফিকুর রহমান তো নিজেকে শহীদ পরিবারের সন্তান দাবি করেন। এভাবেই অনেক মুক্তিযোদ্ধাদের জামাত নিজেদের দলে ভিড়িয়েছে এবং প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে যে তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের। তাই কী কখনো হয়?

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় জামাত ও তাদের অনুসারীরা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল-বদর এবং আল-শামস্ নামে সংগঠন তৈরি করেছিল।

এসব সংগঠন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট এবং ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য কাজে লিপ্ত ছিল।

চব্বিশ সালেও জামাতিরা তাদের আগের নীতিকে অনুসরণ করে ভিন্ন নামে একই রকম সংগঠন তৈরি করছে।

জাতীয় নাগরিক কমিটি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ইনকিলাব মঞ্চ, জাতীয় ইনসাফ কমিটি এসব সংগঠনের মাধ্যমে তারা একদিকে নিজেদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চায়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে এখনো।

এই জামাতে যারা যোগ দেবেন তাঁরা কী নিজেদের মুক্তিযোদ্ধা দাবি করতে পারেন?

মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান পজিটিভ কথা বলেছেন।

তিনি বলেন, ‘কোনো মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারে না, কোনো শহীদ পরিবারের কেউ জামায়াত করতেই পারে না, করলে এটা ডাবল অপরাধ’!

তিনি পরিষ্কার করে দিয়েছেন সেই মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান কী যারা জামাত করে!

এবং লেখক তসলিমা নাসরিনও বলেছেন ‘জামাতপন্থী মুক্তিযোদ্ধা কি অমাবস্যার চাঁদ? হয় না? হতে পারে না? আমার মনে হয় পারে’।

এর কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।

বলেছেন, ‘এর পেছনে ইসলামের ভূমিকা বিশাল। ইসলাম নিরীহ মুসলমানকে জিহাদি বানাতে পারে। ইসলাম কোনও কোনও ইসলামপ্রেমী মুক্তিযোদ্ধাকে জামাতপন্থী বানাতেই পারে।

হয়তো সাধারণ এক কিশোর বা তরুণ গিয়েছিল পাকিস্তানি আর্মির হাত থেকে নিজেকে, নিজের পরিবারকে, নিজের অঞ্চলকে বাঁচাতে ।

অথবা পরিস্থিতির চাপে পড়ে যুদ্ধে যেতে বাধ্য হয়েছিল। অন্য অনেকে গিয়েছিল বলে সেও গিয়েছিল হয়তো। পাকিস্তান ইসলামী দেশ, সুতরাং তাকে পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে একখানা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র নির্মাণ করতে হবে, এমন বড় সড় কোনও সংকল্প হয়তো তার ছিল না।

মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে এসে এক সময় নিজের মুসলিম পরিচয়কে সে গৌরবের সঙ্গে লালন করতে পারে, ইসলাম ধর্ম পালন করতে করতে ইসলামপ্রেমী হয়ে উঠতে পারে, মুসলমানপ্রীতি তার আরও বাড়তে পারে, হিন্দুবিদ্বেষ বাড়তে পারে, ভারতবিদ্বেষও বাড়তে পারে।

জামাতে ইসলামির শরিয়া আইন তার কাছে যৌক্তিক মনে হতে পারে, খেলাফতের ধারণাও তার কাছে ভাল লাগতে পারে।

অনেক মুক্তিযোদ্ধাই মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দেওয়া দল আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করে বিএনপিপন্থী হয়েছে, তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের জামাতপন্থী হতে বাধা কোথায়?

মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কেউ কেউ জামাতপন্থী হয়ে যেতে পারে, কারণ জামাতিরা মুসলমান, তারা আল্লাহর আইন চায় আর মুসলিম মুক্তিযোদ্ধাদের কেউ কেউ ভাবতেই পারেন যে ইসলাম তো আল্লাহর আইনের কথাই বলে, তাহলে জামাতপন্থী হতে ক্ষতি কী’!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *