ঢাকা: আলবদর-রাজাকারের শাসকেরা হয়তো ভুলে গেছে, এখনো ফজলুর রহমানদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা বেঁচে আছে। এই বাংলায় শুধু বেলী, চামেলি আর জুঁইফুল ফোটেনা; এদেশে রক্তগোলাপ, রক্তজবাও ফোটে।

এদেশের জঙ্গলে শুধু কোকিল ডাকেনা, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও থাকে। যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, মুক্তিযোদ্ধাই জিতবে; রাজাকার কোনদিন জয়লাভ করতে পারবেনা, আমি চ্যালেঞ্জ করে বলে গেলাম। এভাবেই বাঘের মতো কথাগুলো বলে গেলেন ফজলুর রহমান।

ফজলুর রহমান তিনি একজন দেশপ্রেমিক বাংলার সূর্য সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধ ও মাননীয় সংসদ সদস্য।

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তাঁর শক্ত অবস্থান। আর তাই রাজাকারদের গা পিত্তি জ্বলে যাচ্ছে। সংসদে মুখ পুড়েছে জামাতের। আরো জ্বলে ওঠে তারা।

ফজলুর রহমানের ব্যাপারে ফেসবুকে কিছু দাড়ি টুপিওয়ালারা বলছে তিনি মারা গেলে কোন আলেম যেন তাঁর জানাজার নামাজ না পড়ায়। আরো কত কী?

সাংবাদিক আনিস আলমগীর বলেন:

“মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আগুন ঝরা কণ্ঠে সংসদ কাঁপালেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। আগুন তো জ্বলছেই- তার মধ্যে এক চামচ ঘি ঢেলে দিলেন আন্দালিব রহমান পার্থ।

কিছু বক্তব্য কেটে দেওয়ার জন্য আবেদন করলেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান।

আর যেখানে যেখানে জামাতের চুলকানি আছে- সেগুলো একটু খুঁচিয়ে বড় করে দেখানোর জন্য নাকি নির্দেশনাও চলে এসেছে আমির শফিকুর রহমানের দপ্তর থেকে”!

আলমগীর ফেসবুকে তাঁর নিজস্ব অ্যাকাউন্টে আরো বলেন, “জামাতের এত শাখা-প্রশাখা- কেউ বসে থাকবে কেন! ফ্যাক্ট-চেক শাখার আল বদর-উদ্দিন শিবির গবেষণা করে বের করেছে, ৫ আগস্টের পর শিল্পকলা একাডেমিতে নাকি বাউল গান আর নাটকের বন্যা বয়ে গেছে!

সুতরাং ফজলুর রহমানের বক্তব্য- ডিরেক্ট বাতিল। গুপ্তরা আবার সেগুলো রিপ্লে দিয়েও যাচ্ছে, যেন “সত্য”টা ঠিকমতো ভাইরাল হয়!

এদিকে গুপ্ত শাখার মুক্তিযোদ্ধারা নতুন আবিষ্কার করেছে- ফজলুর রহমান নাকি মুক্তিযোদ্ধাই না! ট্রেনিং নিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু যুদ্ধ? না, সেটা নাকি “ওয়ার্ক ফ্রম হোম” পর্যায়েই ছিল!

গণস্বাস্থ্যের মব ভিডিওর কল্যাণে আবারও জাতি আলোকিত- আমাদের শুধু মবের জনক ইউনূসই নেই, জননী রিজওয়ানাও আছেন! আহা, ডা. জাফরউল্লাহ বেঁচে থাকলে নিজের প্রতিষ্ঠান দখল নিয়ে জোরালোকণ্ঠে কী কথা বলতেন- তা এখন কল্পনার ওপরে ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

কুজনের বদিউল আলম, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মব-মাস্টাররা ১২ই ফেব্রুয়ারি হ্যাঁ ভোটের পক্ষে মোটা অংকের মাল নিয়ে ক্যাম্পেইন চালিয়ে দিলেন- এখন প্রশ্ন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাণ্ডারে আর কত “টেকাটুকা” অবশিষ্ট আছে?

ভোট হলেই তো হবেনা, গণভোট বাস্তবায়নের জন্য গলা ফাটানোর নতুন সিজন আসছে- সঙ্গে নতুন নতুন ধান্দা প্রতিষ্ঠান, আর তাদের জন্য টাটকা ফান্ডের সুব্যবস্থা করবে কে!

তাহলে বলুন, বিশ্ব বাটপার ইউনূসের এই ১৮ মাসের শাসনে অর্জিত এতসব “ঐতিহাসিক অবদান”- এর মধ্যে আর কোন অবদান আমরা না দেখে থাকার ভান করবো”?

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *