ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।

আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

টিকার অভাবে যেখানে শত শত শিশু মরে, সেই দেশকে আরো ১৪ টা বোয়িং কেন কিনতেই হবে? তাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে? খরচ হবে ৩৭ হাজার কোটি টাকা।

আমরা তো আগে দেশ বিক্রির নানা চুক্তির কথা শুনতাম, কিন্তু পরিষ্কার প্রমাণ পাওয়া যেত না! যুক্তরাষ্ট্রের সাথে করা চুক্তি তার দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে!

প্রতিদিন জনজীবনের কষ্টের খবর এত বেশি যে কোনটা রেখে কোনটা বলা হবে বুঝে ওঠা কঠিন। তেলসহ নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। সংসার চালানো দায় হয়ে পড়েছে এখন।

সংসদ চলছে। কিন্তু জনজীবনের এসব নিয়ে আলোচনা কি কেউ শুনছেন? অবশ্য এই সংসদে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে সে রকম কোন প্রত্যাশাও নেই।

দেশের অর্থনীতি এবং সার্বভৌমত্ব ধ্বংসকারী আমেরিকার সাথে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সাহস করে একজন নির্দলীয় সংসদ সদস্য কথা বলতে গেলেও আলোচনার এজেন্ডা করা হলো না।

ঐ যে কথায় বলে না বাপের মাথায় নাই চুল, পোলার চাপদাড়ি। সেই অবস্থা হয়েছে এখন বাংলাদেশের।

দেশের অর্থনীতিতে চলছে টানাটানি। তহবিলসংকটে বাড়ছে ধারকর্জ। জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ, গ্যাসের জন্য চারদিকে হাহাকার অবস্থা।

এই সংকটকালে খোদ সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং কেনার আয়োজন করছে।

জঙ্গী ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তির দোহাই দিয়ে নীরবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা চাপাতে চাইছে সরকারের ঘাড়ে।

আগের কেনা ১০টি বোয়িংয়ের পুরো টাকা এখনো পরিশোধ করা হয়নি।

তেলের অভাবে গাড়ি চলে না, বাইক চলে না, সরকার কিনবে বোয়িং।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একদিকে জ্বালানিসংকটে যানবাহন স্থবির, ডিজেলের অভাবে কৃষকের সেচ পাম্প চলে না, অন্যদিকে সরকারি মিতব্যয়িতার ঘোষণা জারি রেখে এমন ব্যয়বহুল কেনাকাটা সরকারের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জানা গিয়েছে, বিমানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কায়জার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের পক্ষে স্বাক্ষর করবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে।

বিমান সূত্রে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে উড়োজাহাজ ক্রয়চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন উপস্থিত থাকবেন।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (৩৭ হাজার কোটি টাকা) ১৪টি নতুন বিমান কেনা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮ ম্যাক্স জেট।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *