ঢাকা: ছাত্রলীগ করার অপরাধে ছেলের মেলেনি প্যারোলে মুক্তি, তাই মৃত বাবার লাশ এসেছে কারাবন্দী ছাত্রলীগ ছেলের সাথে শেষ দেখা করতে!
বাবার “লাশ’ যাচ্ছে জেলগেটে সন্তানের সাথে শেষ দেখা করতে। ছেলেকে ছাড়া হয়নি, শেষবারের মতো বাবাই যাচ্ছেন জেলগেটে। জীবিত নয়, মৃত!
বরিশাল মহানগরের ১৫ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি তাহসান শাহরুখের বাবা মারা গেছেন।
কিন্তু বাবাকে দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তির চেষ্টা করেও পাননি। শেষপর্যন্ত জেলগেটে গেল পিতার লাশ । তা ইউনূস এবং তারেক রহমানের সরকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কী?
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন শাহরুখের বাবা।
প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় কারাফটকে বাবার লাশ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বজনরা তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ছাত্রলীগ নেতা শাহরুখের বাবা আবুল বাশার খান (৫৮) মারা যান।
বটতলা টেম্পোস্ট্যান্ডে লাইনম্যানের চাকরি করতেন আবুল বাশার। এর আগে গত শুক্রবার মধ্যরাতে ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের নিউ সার্কুলার রোডে নিজ বাসা থেকে পুলিশ ওয়ার্ড সভাপতি শাহরুখকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
শাহরুখের ভাই সালমান খান জানান, বাবার মৃত্যুর পর কারাগারে থাকা ছোট ভাই শাহরুখের প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের দফতরে আবেদন করেছিলেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাদের বসিয়ে রাখা হয়। এরপর একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে বলেন, ‘আপনারা কারাগারে যান, আমরা সেখানে বলে দিচ্ছি।’
সালমান অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়ার পর সেখানকার কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসকের দফতর থেকে তাদের এই সংক্রান্ত কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরে বিকআল পৌনে ৪টায় লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারে নেওয়া হয়।
৪টার দিকে লাশের সঙ্গে তিন জনকে কারাগারে ঢুকতে দেওয়া হয়। লাশ দেখার জন্য কারা অভ্যন্তরে মাত্র পাঁচ মিনিট লাশ থাকতে দেওয়া হয়।
জানা গিয়েছে, শাহরুখ খানকে ৫ আগস্ট জঙ্গী অভ্যুত্থানের পরে ৮টি মামলায় আসামি করা হয়। এসব মামলায় তিনি গ্রেফতার হন। গ্রেফতারের পর তাঁকে আরও তিনটি মামলায় আসামি করা হয়। ছাত্রলীগ করার অপরাধ।
